মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরপরই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ক্রেমলিনের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে নতুন করে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল ২০২৬) এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরে আসায় এখন রাশিয়ার জ্বালানি খাতের ওপর শিথিল করা সমস্ত নিষেধাজ্ঞা পুনরায় কঠোরভাবে আরোপ করার সময় এসেছে। জেলেনস্কির মতে, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের দুশ্চিন্তা কমে যাওয়ায় এখন মস্কোর আয়ের উৎস বন্ধ করতে পশ্চিমাদের আর কোনো বাধা থাকা উচিত নয়।
উল্লেখ্য যে, গত মাসে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ শুরু হলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে ওঠে। সেই অস্থিরতা সামাল দিতে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগত কারণে রাশিয়ার ওপর আরোপিত কিছু তেলের নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে বাধ্য হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট ‘হরমুজ প্রণালী’ পুনরায় পুরোপুরি সচল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই অনুকূল পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে জেলেনস্কি রাশিয়ার বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক যুদ্ধকে আরও জোরালো করার দাবি তুললেন।
জেলেনস্কি তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেছেন যে, মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ফেরার অর্থ হলো জ্বালানি বাজারে স্বস্তি আসা। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, পশ্চিমা দেশগুলো এখন আর কোনো অজুহাত না দেখিয়ে রাশিয়ার তেলের ওপর আগের মতো সম্পূর্ণ অবরোধ আরোপ করবে। ইউক্রেনের এই নেতা মনে করেন, পুতিনের যুদ্ধযন্ত্রকে অচল করতে হলে রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানি থেকে আসা অর্থ প্রবাহকে অবিলম্বে রুখে দিতে হবে।
আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে এলে পশ্চিমা দেশগুলো আবারও রাশিয়ার ওপর কঠোর অবস্থান নিতে উৎসাহিত হতে পারে। এএফপি এবং অন্যান্য বৈশ্বিক সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী দিয়ে নির্বিঘ্নে তেল সরবরাহ নিশ্চিত হলে রাশিয়ার ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা কেবল সময়ের ব্যাপার হতে পারে। জেলেনস্কির এই কূটনৈতিক তৎপরতা মূলত মস্কোকে বৈশ্বিক অর্থনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন করার একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ।



