― Advertisement ―

ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের ঘরেই বিদ্রোহ; ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগ করে অপসারণের ডাক

ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান নীতিকে কেন্দ্র করে মার্কিন রিপাবলিকান পার্টির ভেতরে ফাটল এখন প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধ থেকে সরে আসার যে পরিকল্পনা ট্রাম্প গ্রহণ করেছেন, তা তার কট্টর সমর্থকদেরও ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। পরিস্থিতি এতটাই চরমে পৌঁছেছে যে, ট্রাম্পের এক সময়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের সাবেক কংগ্রেস সদস্য মার্জোরি টেইলর গ্রিন এখন প্রেসিডেন্টের ঘোর বিরোধী হয়ে উঠেছেন। তিনি মার্কিন সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগ করে ট্রাম্পকে ক্ষমতা থেকে অপসারণের জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিজের দলের ভেতর থেকে এমন কঠোর বিরোধিতার মুখে ট্রাম্প আগে কখনো পড়েননি।

বিগত এক দশকে ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ বা ‘আমেরিকা প্রথম’ নীতির ওপর ভিত্তি করে যে শক্তিশালী রাজনৈতিক বলয় তৈরি হয়েছিল, ইরান সংকট সেই ঐক্যে বড় ধরনের ধস নামিয়েছে। সামরিক হস্তক্ষেপের বিরোধিতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা ট্রাম্প যখন ইরানের সাথে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন, তখন থেকেই দলের ভেতরে অসন্তোষ দানা বাঁধতে থাকে। এখন যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ এবং রণকৌশল পরিবর্তন নিয়ে রিপাবলিকানদের মধ্যেই দুটি স্পষ্ট ধারা তৈরি হয়েছে, যা দলটিকে এক গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

যুদ্ধের শুরুর দিকে ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক অবস্থান থাকলেও পরবর্তীতে তিনি নাটকীয়ভাবে যুদ্ধবিরতির পথে হাঁটেন। তবে গত ছয় সপ্তাহ ধরে চলমান এই সংঘাতের পর ঘোষিত যুদ্ধবিরতি এখনো অত্যন্ত ভঙ্গুর এবং অনিশ্চিত। এই অস্থিরতা ট্রাম্পের নেতৃত্বের ওপর আস্থার সংকট তৈরি করেছে। দলের রক্ষণশীল অংশ মনে করছে, ট্রাম্পের এই দোদুল্যমান নীতি মার্কিন সামরিক ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ণ করছে।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) তথ্যমতে, ট্রাম্পের এই কৌশল রিপাবলিকান পার্টির অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রশমিত করার বদলে বরং আগুনের ঘি ঢেলেছে। দলের ভেতর থেকে ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগের দাবি ওঠার বিষয়টি ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য একটি বড় সতর্কসংকেত। এই অভ্যন্তরীণ বিভাজন কেবল হোয়াইট হাউসের নিয়ন্ত্রণকেই চ্যালেঞ্জ করছে না, বরং যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকেও এক অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।