― Advertisement ―

শি জিনপিংয়ের ‘একীভূত চীন’ বার্তা; কুওমিনতাং নেত্রীর বেইজিং সফর ঘিরে তাইওয়ানে তোলপাড়

তাইওয়ান ও মূল ভূখণ্ড চীনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বরফ গলানোর আভাস দিয়ে বেইজিংয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং তাইওয়ানের প্রধান বিরোধী দল কুওমিনতাং-এর (কেএমটি) চেয়ারপারসন চেং লি-উন। শুক্রবার (১০ এপ্রিল ২০২৬) এই বৈঠকে শি জিনপিং গভীর আত্মবিশ্বাসের সাথে ঘোষণা করেন যে, দুই ভূখণ্ডের জনগণ অদূর ভবিষ্যতে এক হবেই। তার এই মন্তব্যকে তাইওয়ান প্রণালীতে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

চেং লি-উন গত এক দশকের মধ্যে প্রথম কোনো শীর্ষ কুওমিনতাং নেতা হিসেবে চীন সফর করছেন, যা তাইওয়ানের রাজনীতিতে এক বিশাল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। শি জিনপিংয়ের সাথে তার এই সাক্ষাৎকে কেবল একটি সৌজন্যমূলক বৈঠক হিসেবে দেখছে না তাইওয়ানের শাসক দল এবং সাধারণ জনগণের একাংশ। সমালোচকরা বলছেন, চেং লি-উন বেইজিংয়ের ‘সফট পাওয়ার’ বা কোমল কৌশলের ফাঁদে পা দিচ্ছেন এবং তাইওয়ানের সার্বভৌমত্বকে ঝুঁকির মুখে ফেলছেন।

তাইওয়ানের অভ্যন্তরে এই সফর নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। অনেকে অভিযোগ করছেন যে, কুওমিনতাং নেত্রী চীনের প্রতি অতিরিক্ত সহানুভূতি দেখাচ্ছেন এবং বেইজিংপন্থী অবস্থান নিয়ে তাইওয়ানের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে খাটো করছেন। বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনের আগে এমন সফর তাইওয়ানের ভোটারদের মধ্যে বড় ধরনের মেরুকরণ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এএফপি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, শি জিনপিং এই বৈঠককে দুই পক্ষের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের সেতুবন্ধন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে তাইওয়ানের বর্তমান সরকারের জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিশ্লেষকদের মতে, চেং লি-উনের এই বেইজিং যাত্রা চীন-তাইওয়ান সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই সফর কি দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পথ প্রশস্ত করবে নাকি তাইওয়ানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন কোনো সংঘাতের জন্ম দেবে, তা এখন বড় প্রশ্ন।