― Advertisement ―

জ্বালানি বাজারে ঐতিহাসিক পটপরিবর্তন: নিট রপ্তানিকারক হওয়ার পথে যুক্তরাষ্ট্র

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ব জ্বালানি বাজারের মানচিত্র বদলে যাচ্ছে। গত আট দশকের মধ্যে এই প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র তার তেল আমদানির তুলনায় রপ্তানির পরিমাণ প্রায় সমান করে ফেলেছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল ২০২৬) প্রকাশিত মার্কিন সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে দেশটির অপরিশোধিত তেল আমদানির নিট ব্যবধান কমে দৈনিক মাত্র ৬৬ হাজার ব্যারেলে নেমে এসেছে। ১৯৪৩ সালের পর যুক্তরাষ্ট্র আর কখনো নিট তেল রপ্তানিকারক হওয়ার এত কাছাকাছি পৌঁছাতে পারেনি।

ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিদ্যমান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিতে তেল সরবরাহ ব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। বিশ্বের মোট জ্বালানি পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে সম্পন্ন হয়। এই সংকটের ফলে এশিয়া ও ইউরোপের ক্রেতারা বিকল্প উৎসের সন্ধানে এখন পুরোপুরি মার্কিন তেলের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। ফলে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের তেল রপ্তানি দৈনিক ৫২ লাখ ব্যারেলে উন্নীত হয়েছে, যা গত সাত মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ রেকর্ড।

আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আটলান্টিক ও এশীয় অঞ্চলের শোধনাগারগুলো এখন মধ্যপ্রাচ্যের বদলে মার্কিন তেলের দিকে ঝুঁকছে। বিশেষ করে নেদারল্যান্ডস, জাপান, ফ্রান্স এবং দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলো বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ক্রেতা। এমনকি গ্রিস ও তুরস্কের মতো দেশগুলোও দীর্ঘ বিরতির পর আবারও মার্কিন তেল কিনতে শুরু করেছে। জাহাজ পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘কেপলার’-এর তথ্য বলছে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মোট রপ্তানির প্রায় ৪৭ শতাংশ যাচ্ছে ইউরোপে এবং ৩৭ শতাংশ এশিয়ায়।

তবে এই বিপুল চাহিদার বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, পাইপলাইন ও লজিস্টিকস সীমাবদ্ধতার কারণে যুক্তরাষ্ট্র দৈনিক সর্বোচ্চ ৬০ লাখ ব্যারেল পর্যন্ত তেল রপ্তানি করতে পারে। বর্তমানের ৫২ লাখ ব্যারেলের রপ্তানি হার নির্দেশ করছে যে, দেশটি তার সক্ষমতার একেবারে শেষ সীমায় পৌঁছে গেছে। অতিরিক্ত রপ্তানির জন্য পরিবহন ও জাহাজ ভাড়া বহুগুণ বৃদ্ধি পেতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে বাজারের ভারসাম্যে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।