― Advertisement ―

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্যে আগুনের লেলিহান শিখা: ইসরায়েল, কুয়েত ও আমিরাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টি

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাত এখন এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর আল্টিমেটামের জবাবে সোমবার (৬ এপ্রিল ২০২৬) ভোর থেকে ইসরায়েল, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে একযোগে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করেছে ইরান। তেহরানের সামরিক কমান্ড স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এটি তাদের ‘ভয়াবহ প্রতিশোধের’ কেবল শুরু। হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্পের অশালীন ও আক্রমণাত্মক বার্তার পর এই পাল্টাপাল্টি হামলা অঞ্চলটিকে এক অনিশ্চিত যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

বিশ্বের প্রধান জ্বালানি সরবরাহ পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ নিয়ে টানাপোড়েন এখন তুঙ্গে। ইরান এই কৌশলগত পথটি কার্যত বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। ডব্লিউটিআই (WTI) তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১১৩.৬২ ডলারে পৌঁছেছে এবং ব্রেন্ট ক্রুড ১১০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে হুমকি দিয়ে বলেছেন, মঙ্গলবার হবে ইরানের পাওয়ার প্ল্যান্ট ও ব্রিজ ধ্বংসের দিন। এর জবাবে ইরান পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, তাদের কোনো বেসামরিক স্থাপনায় আঘাত করা হলে তার ফল হবে চরম ধ্বংসাত্মক।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধ এখন লেবানন ও উপসাগরীয় দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে। হিজবুল্লাহর সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং ইসরায়েলি শহরগুলোতে নিয়মিত ক্ষেপণাস্ত্র পতন পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরছে। এরই মধ্যে ইরানে ভূপাতিত একটি মার্কিন বিমানের পাইলটকে উদ্ধার করার দাবি করেছেন ট্রাম্প। যদিও এই অভিযানে নিজেদের বেশ কিছু বিমান ধ্বংস করতে হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রকে, তবুও ইরান দাবি করছে তারা চারটি মার্কিন বিমান ভূপাতিত করেছে। তেহরানের অভিযোগ, ট্রাম্প মূলত ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন।

আন্তর্জাতিক মহলে এই পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রকে হুমকির ভাষা পরিহার করে কূটনীতির পথে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে। জাতিসংঘ ও পোপ ফ্রান্সিস ইস্টার উপলক্ষে বিশ্বনেতাদের প্রতি যুদ্ধের পথ ছেড়ে শান্তির পথ বেছে নেওয়ার আকুল আবেদন জানিয়েছেন। তবে ট্রাম্পের ‘মঙ্গলবারের ধ্বংসযজ্ঞের’ হুমকির পর পুরো বিশ্ব এখন রুদ্ধশ্বাসে অপেক্ষা করছে পরবর্তী পরিস্থিতির দিকে। মধ্যপ্রাচ্যের এই আগ্নেয়গিরি যেকোনো মুহূর্তে বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তাকে পুরোপুরি ধসিয়ে দিতে পারে।