― Advertisement ―

ব্যবসায়ীদের জন্য বড় জয়: ট্রাম্পের ‘অসাংবিধানিক’ শুল্কের অর্থ ফেরত দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, আবেদন শুরু আজ

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী হতে যাচ্ছে বিশ্ব। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর আরোপিত বিতর্কিত শুল্কের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া আজ সোমবার (২০ এপ্রিল ২০২৬) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট এই শুল্কগুলোকে ‘অসাংবিধানিক’ বলে রায় দেওয়ার পর সরকার এই বিশাল অংকের অর্থ আমদানিকারকদের ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এর ফলে কয়েক বছর ধরে চলা আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন হাজার হাজার ব্যবসায়ী।

মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি) জানিয়েছে, আজ সকাল ৮টা থেকেই একটি ডেডিকেটেড অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে আমদানিকারক এবং তাদের মনোনীত ব্রোকাররা রিফান্ড বা অর্থ ফেরতের জন্য আবেদন করতে পারছেন। সিবিপি এই পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে পরিচালনা করছে। যারা ট্রাম্পের বিশেষ নির্বাহী আদেশের অধীনে বিভিন্ন সময়ে শুল্ক পরিশোধ করেছিলেন, তাদের নথিপত্র যাচাই-বাছাই করে দ্রুততম সময়ে অর্থ বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

এই ঘটনার মূলে রয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেওয়া কিছু বিতর্কিত বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত। তাঁর মেয়াদে জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে বেশ কিছু দেশের পণ্যের ওপর উচ্চহারে শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল। তবে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে করা মামলার প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট জানায় যে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের এই ধরনের শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সাংবিধানিক ক্ষমতার বাইরে গিয়েছিলেন। আদালত এই পদক্ষেপকে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সংবিধান পরিপন্থী হিসেবে গণ্য করে।

অর্থ ফেরতের এই সিদ্ধান্তের ফলে মার্কিন অর্থনীতির বিভিন্ন খাত উপকৃত হবে। বিশেষ করে যারা চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং অন্যান্য দেশ থেকে কাঁচামাল আমদানি করতেন, তারা কোটি কোটি ডলার ফেরত পেতে যাচ্ছেন। অনেক ছোট ও মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, যারা এই শুল্কের চাপে বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল, তাদের জন্য এই অর্থ হবে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সঞ্জীবনী শক্তি।

সিবিপি-র অনলাইন পোর্টালটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে আমদানিকারকরা সহজেই তাদের পূর্বের এন্ট্রি নম্বর এবং শুল্ক পরিশোধের প্রমাণপত্র জমা দিতে পারেন। আজ সকাল থেকেই পোর্টালে ব্যাপক ট্রাফিক লক্ষ্য করা গেছে। ব্রোকাররা জানিয়েছেন, তারা তাদের মক্কেলদের পক্ষ থেকে শত শত আবেদন জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন। এটি মার্কিন প্রশাসনিক ইতিহাসে অন্যতম বড় মাপের ‘পে-ব্যাক’ বা অর্থ ফেরত দেওয়ার ঘটনা।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সুপ্রিম কোর্টের এই রায় ভবিষ্যতে যেকোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের একক সিদ্ধান্তে শুল্ক আরোপের ক্ষমতাকে সীমিত করবে। সংবিধানের যে ধারাগুলো বাণিজ্যিক ক্ষমতার বিভাজন নিশ্চিত করে, এই রায়ের মাধ্যমে সেগুলোর শ্রেষ্ঠত্ব পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হলো। এটি কেবল আইনি বিজয় নয়, বরং এটি মুক্ত বাণিজ্যের পক্ষের শক্তির জন্যও একটি বড় নৈতিক জয়।

রিফান্ড প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম রুখতে সিবিপি কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। প্রতিটি আবেদনের বিপরীতে যথাযথ তথ্য ও দাপ্তরিক অডিট সম্পন্ন করা হবে। তবে কর্তৃপক্ষ আশ্বস্ত করেছে যে, যাদের নথিপত্র সঠিক আছে, তাদের অর্থ ফেরতের ক্ষেত্রে কোনো অযাচিত বিলম্ব করা হবে না। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যে, এই প্রক্রিয়ায় কয়েকশ বিলিয়ন ডলার পুনরায় বাজার ব্যবস্থায় প্রবেশ করবে।

এই অর্থ ফেরতের ফলে মার্কিন শেয়ার বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে রিটেইল, অটোমোবাইল এবং ইলেকট্রনিক্স খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম বাড়তে শুরু করেছে। কোম্পানিগুলো তাদের দীর্ঘদিনের লোকসান এই রিফান্ডের মাধ্যমে পুষিয়ে নিতে পারবে বলে আশা করছে। বিনিয়োগকারীরাও সরকারের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন।

তবে এই পুরো প্রক্রিয়ার পেছনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তাঁর সমর্থকরা মনে করছেন, এটি তাঁর বাণিজ্যিক নীতির ওপর একটি রাজনৈতিক আঘাত। অন্যদিকে, বিরোধীরা বলছেন যে সংবিধানের ঊর্ধ্বে কেউ নন—এই রায়ের মাধ্যমে সেটিই প্রমাণিত হয়েছে। রাজনৈতিক বিতর্ক ছাপিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছে এখন প্রধান বিষয় হলো তাদের হকের অর্থ ফিরে পাওয়া।

পরিশেষে বলা যায়, আজ সোমবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া এই আবেদন প্রক্রিয়া মার্কিন বিচার ব্যবস্থার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের বা ব্যবসায়ীদের অধিকার আদায়ে আদালত যে চূড়ান্ত ভূমিকা রাখতে পারে, এই ঘটনা তারই বহিঃপ্রকাশ। আগামী কয়েক মাস ধরে চলা এই রিফান্ড প্রক্রিয়ার দিকে এখন তাকিয়ে আছে সারা বিশ্বের বাণিজ্যিক মহল।