ইরানের রাজধানী তেহরানসহ দেশটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সোমবার (৬ এপ্রিল ২০২৬) রাতভর নজিরবিহীন বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। এই যৌথ অভিযানে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৫ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। হামলার পরপরই মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্র নতুন রূপ নিয়েছে; তেহরান পাল্টা জবাবে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর দিকে ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া ‘হরমুজ প্রণালী’ খুলে দেওয়ার সময়সীমা ঘনিয়ে আসায় এই সামরিক উত্তেজনা এখন চরম তুঙ্গে।
সোমবার রাতজুড়ে তেহরানের আকাশ ছিল যুদ্ধবিমানের দখলে। নিচু দিয়ে উড়ে যাওয়া বোমারু বিমানের গর্জনে কেঁপে ওঠে পুরো শহর। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ঐতিহাসিক আজাদি স্কয়ারের পাশেই একটি বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটে, যেখান থেকে দীর্ঘ সময় কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে উড়তে দেখা গেছে। এই হামলার একটি অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিল ইরানের প্রখ্যাত ‘শরীফ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি’। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিস্ফোরণের পাশাপাশি পাশের একটি গ্যাস বিতরণ কেন্দ্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উল্লেখ্য, এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরেই পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে।
রক্তক্ষয়ী এই অভিযানের আঁচ লেগেছে আবাসিক এলাকাগুলোতেও। ইরানের রাষ্ট্রীয় দৈনিক ‘ইরান’-এর তথ্যমতে, ধর্মীয় নগরী কোমের একটি জনবহুল এলাকায় বিমান হামলায় অন্তত ৫ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এক বিবৃতিতে এই অভিযানের প্রথম ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করার দাবি করেছে। তারা জানিয়েছে, ইরানি শাসনব্যবস্থার কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুগুলোকেই কেবল নিশানা করা হয়েছে। তবে তেহরানের দাবি, আবাসিক ভবন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে তেল আবিব আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে।
বর্তমানে পুরো ইরানজুড়ে এক ধরনের যুদ্ধকালীন জরুরি অবস্থা বিরাজ করছে। সামরিক ঘাঁটিগুলো বারবার আক্রান্ত হওয়ায় নিরাপত্তা বাহিনী বিকল্প ও গোপন অবস্থানে সরে যাচ্ছে। নিরাপত্তার খাতিরে দেশজুড়ে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে অনলাইন ক্লাস চালু করা হয়েছে। ইরান সরকার এখনো মোট ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান প্রকাশ না করলেও বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের ছক পুরোপুরি বদলে দিতে পারে। হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের পর এই বিমান হামলা অঞ্চলটিকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিল।



