― Advertisement ―

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে ত্রাণ সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে; কোটি মানুষের জীবন ঝুঁকির মুখে

পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাত কেবল একটি আঞ্চলিক যুদ্ধ হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি একটি ভয়াবহ বৈশ্বিক মানবিক সংকটে রূপ নিয়েছে। হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় এবং দুবাই, দোহা ও আবুধাবির মতো প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোর সরবরাহ রুট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের কাছে জীবনরক্ষাকারী খাদ্য ও ওষুধ পৌঁছানো এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। মানবিক সংস্থাগুলো সতর্ক করে দিয়েছে যে, যুদ্ধের কারণে পরিবহন ও বিমা খরচ আকাশচুম্বী হওয়ায় একই বাজেটে আগের চেয়ে অনেক কম পরিমাণ ত্রাণ পাঠানো সম্ভব হচ্ছে।

সংকটের গভীরতা বোঝাতে ‘বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি’ (WFP) জানিয়েছে, তাদের হাজার হাজার মেট্রিক টন খাদ্যসামগ্রী বর্তমানে মাঝপথে আটকে আছে। ‘ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি’র প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার সমমূল্যের ওষুধ দুবাইয়ের বন্দরে স্থবির হয়ে পড়েছে। এমনকি সোমালিয়ার অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের জন্য ভারত থেকে পাঠানো বিশেষ খাদ্য সহায়তাও গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না। জাতিসংঘ এই পরিস্থিতিকে কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ের সবচেয়ে বড় ‘সাপ্লাই চেইন’ বিপর্যয় হিসেবে অভিহিত করেছে, যেখানে পরিবহন ব্যয় ইতোমধ্যে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

যুদ্ধের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে লজিস্টিক সাপ্লাই চেইনের প্রতিটি স্তরে। ইউনিসেফ জানিয়েছে, আগে ইরানে সরাসরি বিমানে টিকা পাঠানো সম্ভব হলেও এখন তুরস্ক হয়ে দীর্ঘ সড়কপথ ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা খরচ ও সময়—উভয়ই বাড়িয়ে দিয়েছে। একইভাবে দুবাই থেকে সুদান পর্যন্ত সমুদ্রপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন সৌদি আরব হয়ে লোহিত সাগর পাড়ি দিতে হচ্ছে। এতে সরবরাহ পৌঁছাতে আগের চেয়ে ১০ দিন বেশি সময় লাগছে এবং ব্যয় বেড়েছে প্রায় ২৫ শতাংশ। বর্তমানে কেবল সুদানেই প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ মানুষ চরম খাদ্য সংকটের মুখে রয়েছে।

চিকিৎসা সেবায় এই যুদ্ধের প্রভাব আরও করুণ। নাইজেরিয়ার মতো দূরবর্তী দেশেও জ্বালানির দাম ৫০ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালগুলো জেনারেটর চালাতে হিমশিম খাচ্ছে। ‘ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস’ জানিয়েছে, সোমালিয়ায় ৬৫ লাখ মানুষ অনাহারের দ্বারপ্রান্তে, অথচ জ্বালানির ঊর্ধ্বগতির কারণে সেখানে চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠানো কঠিন হয়ে পড়েছে। মাদিহা রাজার মতো মানবিক কর্মীরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালীর এই অচলাবস্থা মানবিক কার্যক্রমকে তার সহনক্ষমতার বাইরে ঠেলে দিচ্ছে। এই যুদ্ধ আজ কোটি মানুষের জীবনকে সরাসরি হুমকির মুখে দাঁড় করিয়েছে।