দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক অচলাবস্থা কাটিয়ে অবশেষে একটি অন্তর্বর্তী বাণিজ্যচুক্তিতে পৌঁছাল যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণার পর প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে দেখা যাচ্ছে, দুই দেশের এই সমঝোতা কেবল ব্যবসাই নয়, বরং কৌশলগত দিক থেকেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই চুক্তির ফলে ভারতীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক হার কমে ১৮ শতাংশে নামছে। ওয়াশিংটন তাদের আগের কঠোর বা শাস্তিমূলক শুল্কগুলো প্রত্যাহার করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা ভারতীয় রপ্তানিকারকদের জন্য বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে টেক্সটাইল, চামড়া, জুতা এবং হস্তশিল্পের মতো খাতে ভারত এখন মার্কিন বাজারে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারবে।
চুক্তির অন্যতম বড় শর্ত হিসেবে ভারতও তাদের বাজার যুক্তরাষ্ট্রের জন্য উন্মুক্ত করছে। পশুখাদ্য, শস্য, সয়াবিন তেল এবং ওয়াইনের মতো মার্কিন কৃষিপণ্যের ওপর থেকে শুল্ক কমানো বা পুরোপুরি তুলে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দিল্লি। এছাড়া তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে মার্কিন পণ্যের জন্য বিদ্যমান কঠোর লাইসেন্সিং ব্যবস্থা বাতিল করছে ভারত, যার ফলে প্রযুক্তি বাণিজ্যে গতি আসবে। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রও ভারতীয় জেনেরিক ওষুধ, রত্ন এবং বিমানের যন্ত্রাংশের ওপর থেকে পাল্টা শুল্ক সরিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে পণ্য আদান-প্রদান আরও সহজ ও সাশ্রয়ী হবে।
এই চুক্তির একটি বিশেষ দিক হলো আগামী পাঁচ বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য কেনার পরিকল্পনা করেছে ভারত। এর মধ্যে জ্বালানি, প্রযুক্তি ও কয়লার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাত রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বিশাল বিনিয়োগের মূল লক্ষ্য হলো চীনের বাজার-বহির্ভূত প্রভাব মোকাবিলা করা এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় ভারসাম্য আনা। সংবেদনশীল প্রযুক্তি এবং ডেটা সেন্টারের জন্য জিপিইউ-এর মতো আধুনিক যন্ত্রাংশ নিয়ে সহযোগিতার বিষয়েও দুই দেশ একমত হয়েছে। মূলত চীনকে অর্থনৈতিকভাবে চাপে রাখা এবং দুই দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই চুক্তির নেপথ্য শক্তি হিসেবে কাজ করছে।



