দেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ইতিমধ্যে আইনি ও প্রশাসনিক স্তরে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, নির্ধারিত সাংবিধানিক ও আইনি সময়সীমার মধ্যেই নির্বাচন কমিশন সব স্তরের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচন আয়োজনে সম্পূর্ণ সক্ষম। আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন, ২০২৬) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে নওগাঁ-৬ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মো. রেজাউল ইসলামের এক সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী সংসদকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে বিষয়টি টেবিলে উত্থাপিত হয়।
অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাতের (হাসনাত আবদুল্লাহ) এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সংসদীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিয়ে রাষ্ট্রের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার জন্য নির্বাচন কমিশন ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ তথ্যপ্রযুক্তি বা আইটি-সমর্থিত (IT-Supported) পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থার আওতায় ভোটার নিবন্ধন পদ্ধতি চালু করেছে। এই আধুনিক ডিজিটাল উদ্যোগটি আগামী সাধারণ নির্বাচন বা জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও পুরোপুরি বহাল থাকবে এবং এর পরিধি আরও বৃদ্ধি করা হবে। সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রবাসীকে এই আইনি প্রক্রিয়ায় যুক্ত করতে কমিশন মিশনভিত্তিক কাজ করছে।
এদিকে, দেশের তৃণমূল পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিদের সুযোগ-সুবিধা সংক্রান্ত গাইবান্ধা-২ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল করিমের এক প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সরকারের বর্তমান আর্থিক ও নীতিগত অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি জানান, দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও বাজেট বরাদ্দ বিবেচনা করে এই মুহূর্তে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এবং সদস্যদের (মেম্বার) সম্মানী বা মাসিক বেতন বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় নেই। তবে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও স্থানীয় সরকার সংস্থাসমূহকে আরও স্বাবলম্বী করার জন্য সরকার ভিন্ন প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
এছাড়া জেলা প্রশাসনে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ও মর্যাদা সংক্রান্ত অপর এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংসদকে জানান, নতুন আইনি কাঠামো অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট জেলার নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা (এমপি) পদাধিকারবলে জেলা পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবেন। জেলা পরিষদের যেকোনো উন্নয়নমূলক প্রকল্প গ্রহণ, কার্যাবলি সম্পাদন ও তদারকির ক্ষেত্রে উপদেষ্টা হিসেবে সংসদ সদস্যরা তাঁদের মূল্যবান পরামর্শ দেবেন এবং পরিষদ সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে। এর ফলে স্থানীয় সরকারের সাথে জাতীয় আইনপ্রণেতাদের সমন্বয় আরও সুদৃঢ় হবে বলে মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।



