― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

ঢাকায় আলজেরিয়া দূতাবাসে পালিত হলো জাতীয় মুজাহিদ দিবস: মুক্তিসংগ্রামের অভিন্ন ইতিহাস স্মরণে দুই দেশ

১৯৫৫ সালের উত্তর কনস্টান্টিন অভিযান এবং ১৯৫৬ সালের ঐতিহাসিক সুমাম কংগ্রেস—আলজেরিয়ার স্বাধীনতা যুদ্ধের এই দুই অবিস্মরণীয় মাইলফলককে শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকায় উদযাপিত হলো আলজেরিয়ার ‘জাতীয় মুজাহিদ দিবস’।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট ২০২৬) সকাল ১১টায় গুলশানস্থ আলজেরিয়া দূতাবাস প্রাঙ্গণে এক বিশেষ স্মারকানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশে নিযুক্ত আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত ড. আবদেলওয়াহাব সাইদানির পক্ষ থেকে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধি, বাংলাদেশ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং আমন্ত্রিত বিশিষ্ট অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

এ বছর দিবসটির মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছিল “আমরা তাদের সংগ্রামের পথ অনুসরণ করি” (We Follow in Their Footsteps of Struggle)। মূলত জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা, আত্মত্যাগ এবং একতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই এই বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

স্মরণসভায় দূতাবাসের প্রতিনিধিরা ১৯৫৫ ও ১৯৫৬ সালের ঐতিহাসিক ঘটনার সামরিক ও কূটনৈতিক তাৎপর্য বিশদভাবে তুলে ধরেন। বিপ্লবী নেতা জিগুত ইউসেফের নেতৃত্বে পরিচালিত ২০ আগস্ট ১৯৫৫ সালের উত্তর কনস্টান্টিন অভিযান আলজেরিয়ার ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্টের (এফএলএন) প্রতি বিশাল জনসমর্থন প্রমাণ করে। এই ঘটনা সশস্ত্র আন্দোলনকে সুসংগঠিত করার পাশাপাশি জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলজেরিয়ার স্বাধীনতার দাবিকে বিশ্বমঞ্চে সোচ্চার করে তোলে।

ঠিক এক বছর পর, ২০ আগস্ট ১৯৫৬ সালে অনুষ্ঠিত সুমাম কংগ্রেস বিপ্লবকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়। রাজনৈতিক ও সামরিক কাঠামোর রূপরেখা তৈরির মাধ্যমে এটি একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম আলজেরীয় রাষ্ট্র গঠনের সুদৃঢ় ভিত্তি স্থাপন করেছিল। এই দুটি ঐতিহাসিক মাইলফলক আলজেরীয় জনগণের অপ্রতিরোধ্য ইচ্ছা ও সুপরিকল্পিত স্বাধীনতার লড়াইকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরে।

অনুষ্ঠানে আলজেরিয়ার মুক্তিসংগ্রামের সঙ্গে বাংলাদেশের ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক মিলগুলো আস্থার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। উভয় দেশের ইতিহাসই আর্থ-সামাজিক বৈষম্য, সাংস্কৃতিক নিপীড়নের বিরুদ্ধে লড়াই এবং আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার প্রতিষ্ঠার রক্তক্ষয়ী গণআন্দোলনের ওপর দাঁড়িয়ে।

সমাপনী বক্তব্যে দূতাবাস পুনর্ব্যক্ত করে যে, ২০ আগস্টের রক্তঝরা ইতিহাস আজও আলজেরিয়ার পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় পরিচয়ের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। এই অভিন্ন ঐতিহাসিক বন্ধন বাংলাদেশ ও আলজেরিয়ার পারস্পরিক বন্ধুত্ব, কৌশলগত অংশীদারিত্ব ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে আগামী দিনে আরও নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।