― Advertisement ―

জুলাই বিপ্লবের চেতনা ধারণ করেই এগোবে আইন মন্ত্রণালয়; প্রথম দিনেই বড় অঙ্গীকার

বাংলাদেশের বিচারিক ব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পাহাড় সমান প্রত্যাশার ভার কাঁধে নিয়েছেন নবনিযুক্ত আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। বুধবার সচিবালয়ে তাঁর প্রথম কার্যদিবসে সাংবাদিকদের...

চট্টগ্রামে জুলাই গণহত্যার মামলা: সাবেক মন্ত্রী হাছান মাহমুদ ও নওফেলসহ ২২ আসামির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠন

২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ, নৃশংস হত্যাকাণ্ড ও সাধারণ ছাত্র-জনতার ওপর হামলার মামলায় সাবেক তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এবং সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীসহ মোট ২২ জন আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (Charges) গঠন করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন, ২০২৬) সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই যুগান্তকারী আদেশ দেন। একই সাথে ট্রাইব্যুনাল মামলার সূচনা বক্তব্য (Opening Statement) উপস্থাপন এবং রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ৬ আগস্ট, ২০২৬ তারিখ ধার্য করেছেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, এই মামলার ২২ জন আসামির মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য ফজলে করিম চৌধুরীসহ মোট পাঁচজন আসামি বর্তমানে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হেফাজতে বা গ্রেপ্তার আছেন। আজ কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে এই পাঁচ আসামিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। শুনানির শুরুতে ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে আনা গুরুতর মানবতাবিরোধী অপরাধের আনুষ্ঠানিক অভিযোগনামা পড়ে শোনান। এরপর সুনির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী ট্রাইব্যুনাল উপস্থিত আসামিদের কাছে জানতে চান যে, তাঁরা নিজেদের অপরাধ স্বীকার করছেন কি না। এর জবাবে কাঠগড়ায় উপস্থিত সকল আসামিই নিজেদের সম্পূর্ণ ‘নির্দোষ’ বলে দাবি করেন এবং আইনি লড়াইয়ের ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

শারীরিক অসুস্থতার কারণে গত শুনানির মতো আজও সাবেক সংসদ সদস্য ফজলে করিম চৌধুরীকে একটি বিশেষ অ্যাম্বুলেন্সে করে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে নিয়ে আসা হয়। পরবর্তীতে হুইলচেয়ার বা সাধারণ হাঁটার বিকল্প হিসেবে স্ট্রেচারে করে তাঁকে ট্রাইব্যুনালের এজলাসে তোলা হয়। বিচারিক কার্যক্রম চলাকালীন পুরো সময় তিনি এজলাসের ভেতর স্ট্রেচারে শুয়ে ছিলেন এবং তাঁর আইনজীবীরা তাঁর পক্ষে আইনি সওয়াল-জবাব করেন। মামলার বাকি ১৭ জন আসামি বর্তমানে পলাতক থাকায় তাঁদের অনুপস্থিতিতেই (In Absentia) বিচারিক প্রক্রিয়া সচল রাখার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

প্রসিকিউশন বা রাষ্ট্রপক্ষের দায়ের করা এই মামলায় ২২ জন আসামির বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের বিভিন্ন পয়েন্টে ছয়জন নিরীহ ছাত্র-জনতাকে হত্যা এবং শতাধিক মানুষকে গুরুতর আহত করাসহ মোট তিনটি সুনির্দিষ্ট চার্জ বা অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথম অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই চট্টগ্রামের মুরাদপুর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় ছাত্রদলের নেতা মো. ওয়াসিম আকরাম, ফয়সাল আহমেদ শান্ত এবং পথচারী মো. ফারুককে গুলি করে হত্যা করা হয়। দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৮ জুলাই বহদ্দারহাট এলাকায় কোটা সংস্কার আন্দোলনের ছাত্র তানভীর সিদ্দিকী, মো. সাইমন এবং মো. হৃদয় চন্দ্রকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এছাড়া তৃতীয় অভিযোগে এই মামলার আসামিদের প্রত্যক্ষ মদদ ও নির্দেশে চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে শতাধিক মানুষকে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে গুরুতর আহত করার বিবরণ রয়েছে।