― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

অন্তর্বর্তী সরকারের গত ১৫ মাসে ২৬টি রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে গত ১৫ মাসে দেশে অন্তত ২৬টি রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। নিউক্লিয়াস পার্টি, জনপ্রিয় পার্টি, জাগ্রত পার্টি, আমজনতার দল, আ-আম জনতা পার্টি সহ গত আট মাসে এমন অন্তত ২৬টি নাম যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে। এদের বেশিরভাগ দলের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান হয়েছে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে। আবার কোনও দলের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান হয়েছে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে।

এর মধ্যে ৬টি দলের নামের মধ্যে কোনও না কোনোভাবে ‘জনতা’ শব্দটি যুক্ত রয়েছে। নতুন দলগুলোর মধ্যে ১৯টি ইসিতে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছিল। তবে নিবন্ধন পেতে যাচ্ছে এনসিপি এবং বাংলাদেশ আম-জনগণ পার্টি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দল গঠনের এই প্রবণতা নতুন কিছু নয়। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে এমন নতুন নতুন দল গঠন করতে দেখা গেছে। আর নির্বাচনকেই এর প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন তারা। নির্বাচনের সময় এগোলে “ব্যাঙের ছাতার মতো এমন অনেক দল গজিয়ে ওঠে” বলছেন তারা।

নতুন রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে যোগাযোগ করে শুধু এনসিপি ছাড়া বেশিরভাগ দলের কার্যালয় এক বা দুই কক্ষ বিশিষ্ট। আবার ঠিকানায় কয়েকটি দলের কার্যালয় পাওয়া যায়নি। এ ছাড়াও আত্মপ্রকাশের পর আবার দলের নাম পরিবর্তনের ঘটনাও ঘটেছে।

ডেসটিনি গ্রুপের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল আমীনের নেতৃত্বে গত ১৭ এপ্রিল আত্মপ্রকাশ করে বাংলাদেশ আ-আম জনতা পার্টি। এক মাস পর দলটির নাম বদলে রাখা হয় ‘বাংলাদেশ আম-জনগণ পার্টি’।

সর্বশেষ গত ২৮ অক্টোবর আত্মপ্রকাশ করা রাজনৈতিক দলটির নাম ‘বাংলাদেশ ইউনাইটেড পার্টি’। গত বছরের আগস্ট থেকে চলতি বছরের ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত গত ১৫ মাসে আত্মপ্রকাশ করা অন্য দলগুলো হচ্ছে জনতা পার্টি বাংলাদেশ, নিউক্লিয়াস পার্টি অব বাংলাদেশ (এনপিবি), ওয়ার্ল্ড মুসলিম কমিউনিটি, বাংলাদেশ জনপ্রিয় পার্টি (বিপিপি), সার্বভৌমত্ব আন্দোলন,

এছাড়া আছে, বাংলাদেশ সংস্কারবাদী পার্টি (বিআরপি), বাংলাদেশ জাগ্রত পার্টি, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক পার্টি, জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ, বাংলাদেশ সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (বিএসডিপি), বাংলাদেশ জন-অধিকার পার্টি, আমজনতার দল, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক শক্তি, দেশ জনতা পার্টি, জনতার দল, গণতান্ত্রিক নাগরিক শক্তি, ভাসানী জনশক্তি পার্টি,

এ ছাড়াও রয়েছে, বাংলাদেশ নতুনধারা জনতার পার্টি, পিপলস পাওয়ার পার্টি, বাংলাদেশ রিপাবলিক পার্টি, জনতার বাংলাদেশ পার্টি, নতুন বাংলাদেশ পার্টি, বাংলাদেশ সমতা পার্টি, বাংলাদেশ আমজনগণ পার্টি এবং জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি।

নতুন আত্মপ্রকাশ করা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে গত ১৭ অক্টোবর আমন্ত্রণ পেয়েছিল মাত্র তিনটি দল। তারা হচ্ছে, এনসিপি, ভাসানী জনশক্তি পার্টি ও আমজনতার দল। তাদের মধ্যে এনসিপি এখনো জাতীয় জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেনি।

খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, বাংলাদেশ জনপ্রিয় পার্টির দুই কক্ষের কার্যালয় মতিঝিলের শাপলা চত্বরের কাছেই পুরোনো একটি ভবনের চতুর্থ তলায়। এই কার্যালয়ে আগে চা–পাতা বেচাকেনার ব্যবসা চলত। সেই ব্যবসায় ‘ধরা খেয়ে’ নতুন রাজনৈতিক দল করেছেন মো. সিরাজুল ইসলাম। তিনি নিজেই দলের চেয়ারম্যান। গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে আত্মপ্রকাশ করে দলটি।

দল চলে কিভাবে? এমন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ জনপ্রিয় পার্টির চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, দলের স্ট্যান্ডিং কমিটির ৯-১০ জন সদস্য প্রতি মাসে কেউ ৫০০, কেউ ১ হাজার টাকা হারে চাঁদা দেন। পার্টির অফিসের ভাড়া ২৫ হাজার টাকা। নিজের ব্যবসার কাজও এই কার্যালয়ে হয়। তাই তিনি নিজেই অফিস ভাড়ার একটি অংশ বহন করেন।

কেন দল করলেন, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘কোনো না কোনো দলকেতো ভোট দিতে হবে। আমার কোনো দলই পছন্দ হয় না। তাই নিজের পার্টিকে নিজেই ভোট দিতে জনপ্রিয় পার্টির প্রতিষ্ঠা করেছি।’

নতুন দলগুলোর মধ্যে এমন দুইটি দলের সন্ধান মিলেছে যাদের দলের প্রধান প্রবাসী। জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ আত্মপ্রকাশ করে গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর। দলটির সহকারী সদস্যসচিব আবদুস সালাম বলেন, তাঁদের দল ধীরে চলো নীতিতে চলছে। এখন পর্যন্ত দলের কোনো কেন্দ্রীয় কার্যালয় নেই। দলের চেয়ারম্যান খোমেনি এহসান থাকেন জাপানে। এদিকে বাংলাদেশ সংস্কারবাদী পার্টি (বিআরপি) নামের আরেকটি রাজনৈতিক দলের চেয়ারম্যান সোহেল রানাও যুক্তরাজ্যপ্রবাসী।

গত ২৮ অক্টোবর জাতীয় প্রেসক্লাবে আত্মপ্রকাশ করে বাংলাদেশ ইউনাইটেড পার্টি। অনুষ্ঠানে দলটির চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন বলেছিলেন, দেশের অন্তত ২০টি জেলা ও শতাধিক উপজেলায় তাঁর কমিটি রয়েছে। তবে ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ৬০–৭০ জন লোক। অনুষ্ঠানে উপস্থিতদের মধ্যে গণমাধ্যমকর্মী ও ইউটিউবারই ছিলেন অন্তত ২০ থেকে ২৫ জন।

জেলা–উপজেলা পর্যায়ে এত কমিটি থাকতে অনুষ্ঠানে উপস্থিতি এত কম কেন? এমন প্রশ্নে সেদিন জাকির হোসেন গণমাধ্যম কর্মীদের বলেছিলেন, ‘সবাইকে ঢাকায় নিয়ে আসার কোনো প্রয়োজনীয়তা দেখি না। এতে শুধু শুধু যানজট বাড়ে।’

এনিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এর আগেও আমরা দেখেছি যখন নির্বাচনের গন্ধ এসে নাকে লাগে, তখন হঠাৎ করেই এমন অনেক দল গজিয়ে ওঠে ব্যাঙের ছাতার মতো’। এ ধরনের দল তৈরির প্রবণতা দেখা গিয়েছিল এরশাদের আমলেও।

তিনি বলেন, ‘এরশাদের আমলে বড় দলগুলো এরশাদের সঙ্গে নির্বাচনে সহযোগিতা করেনি বা করতে চায়নি, তখন এরশাদ দেখাতে চেয়েছিল যে দেশে প্রচুর রাজনৈতিক দল আছে। সুতরাং তারা নির্বাচনে এলেতো প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হবে’।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ বলেন, ‘এখন একটা বদ্ধমূল ধারণা হয়ে গেছে সবার মধ্যে যে রাজনীতি করলে খুব দ্রুত লাভবান হওয়া যায়। রাজনীতি করলে খুব দ্রুত টাকাপয়সা কামানো যায়, আর ব্যক্তিগত প্রভাব খাটানো যায়। এছাড়া এটার ভেতরে উদ্দেশ্য আর কি’।