― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

সংসদে মাদক ও সাইবার আইন সংশোধনের পৃথক বিল উত্থাপন

দেশের বিচারব্যবস্থায় গতি আনা এবং সাইবার অপরাধের পরিধিকে আরও সুনির্দিষ্ট করার লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে আলাদা দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিল উত্থাপন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার (২৭ জুন, ২০২৬) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ এবং ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ নামের এই বিল দুটি উত্থাপন করেন। বিল দুটি উত্থাপনের সময় প্রধান বিরোধী দলের পক্ষ থেকে তীব্র আপত্তি জানানো হলেও তা বিধি মোতাবেক নাকচ করে দেন স্পিকার। পরে বিল দুটি অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সুনির্দিষ্ট প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

প্রস্তাবিত সংশোধনীতে দেশের মাদক অপরাধের বিচারিক প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন আনা হচ্ছে। নতুন বিল অনুযায়ী, মাদক অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষায়িত ‘মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল’ প্রতিষ্ঠার বিধান পুনরায় যুক্ত করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি বিদ্যমান সাইবার সুরক্ষা আইন থেকেও একটি বড় অংশ বাদ দেওয়া হচ্ছে। ডিজিটাল মাধ্যমে বা সাইবার স্পেসে জুয়া খেলার অপরাধ ও দণ্ড সম্পর্কিত ধারাগুলো এই আইন থেকে সম্পূর্ণ অপসারণ করে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন’ নামে একটি সম্পূর্ণ নতুন ও স্বতন্ত্র আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অধিবেশনের শেষ পর্যায়ে দিনের সম্পূরক কার্যসূচির অংশ হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন। বিলের উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দেশের সাধারণ আদালতগুলোতে মামলার অস্বাভাবিক জট ও চাপের কারণে মাদক-সংক্রান্ত অপরাধের বিচারকাজে কাঙ্ক্ষিত গতি আনা সম্ভব হচ্ছে না। দ্রুত বিচার না হওয়ায় সমাজে মাদক ও অপরাধপ্রবণতা আরও গভীর শিকড় গেড়ে বসছে। এই সংকট নিরসনে সাধারণ আদালতের বিদ্যমান এখতিয়ার অক্ষুণ্ণ রেখেই মাদকপ্রবণ জেলা ও অঞ্চলগুলোতে পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হবে। এ ছাড়া সাইবার স্পেসে সংঘটিত মাদক অপরাধ দমন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জন্য আগ্নেয়াস্ত্রের প্রাধিকার এবং বিশেষ ডগ স্কোয়াড গঠনের নতুন বিধানও এই বিলে সংযোজন করা হয়েছে।

অন্যদিকে, একই অধিবেশনে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ সংসদে উত্থাপন করেন। এই বিলটিও পরবর্তী তিনটি কার্যদিবসের মধ্যে পরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। মূলত সাইবার অপরাধের বহুমাত্রিকতা বিবেচনা করে জুয়া সংক্রান্ত অপরাধকে মূল সাইবার আইন থেকে আলাদা করে দণ্ডবিধির পরিধি আরও সুনির্দিষ্ট করতেই এই আইনি সংস্কার করা হচ্ছে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

তবে আকস্মিকভাবে সম্পূরক কার্যসূচিতে বিল দুটি আনায় এবং সংসদ সদস্যদের আগে থেকে অবহিত না করায় এর তীব্র বিরোধিতা করেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা। বিল উত্থাপনের পর ক্ষোভ প্রকাশ করে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান প্রশ্ন তোলেন, এই বিলগুলো তড়িঘড়ি করে উত্থাপন করার মতো কোনো জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হয়নি; তাহলে যথাযথ প্রক্রিয়া ও সময়সীমা অনুসরণ করতে সমস্যা কোথায়? তিনি আইনের তুলনামূলক বিশ্লেষণের দাবি জানান। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিলটি এখন কেবল উত্থাপিত হয়েছে, পাস হচ্ছে না। সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই এটি সংশোধিত আকারে পাসের জন্য চূড়ান্ত তুলনামূলক বিশ্লেষণসহ হাউজে আসবে।