― Advertisement ―

সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে কেন মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলো

মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগের তদন্ত ও দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতেই এই বিচারপ্রক্রিয়া

দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় সিরিয়া শাসনের পর ২০২৪ সালে গৃহযুদ্ধের মধ্যে দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ। এর মধ্য দিয়ে সিরিয়ায় প্রায় পাঁচ দশক ধরে চলা আসাদ পরিবারের শাসনের অবসান ঘটে। এবার গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বাশার আল-আসাদের পাশাপাশি তার ভাই মাহের আল-আসাদ, সামরিক বাহিনীর কুখ্যাত ‘ফোর্থ ডিভিশন’-এর সাবেক কমান্ডার এবং তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাদের সঙ্গে আসাদ পরিবারের চাচাতো ভাই আতেফ নাজিবসহ আরও ছয়জনকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বিচারপ্রক্রিয়াটি পরিচালিত হয়েছে ‘পূর্ববর্তী শাসনামলে’ সংঘটিত গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্ত এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে।

আতেফ নাজিব বর্তমানে সিরিয়ায় আটক রয়েছেন এবং আদালতে উপস্থিত থেকে বিচার ও রায় প্রত্যক্ষ করেছেন। তবে বাশার ও মাহের আল-আসাদসহ বাকি আটজনের বিচার হয়েছে তাদের অনুপস্থিতিতে। আসাদ ভাইয়েরা বর্তমানে রাশিয়ায় আশ্রয়ে রয়েছেন।

তাদের সিরিয়ায় ফেরত আনা এবং অনুপস্থিতিতে দেওয়া মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা বর্তমান সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। বিশেষ করে রাশিয়ায় অবস্থানরত আসাদ ভাইদের প্রত্যর্পণ নিশ্চিত করা সহজ হবে না।

২০২৪ সালে আসাদবিরোধী দ্রুত সামরিক অভিযানের নেতৃত্ব দেন আহমদ আল-শারা। তিনি আগে আবু মুহাম্মদ আল-জোলানি নামে পরিচিত ছিলেন এবং আল-কায়েদার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন; ইসলামিক স্টেটের সঙ্গেও তার যোগাযোগের ইতিহাস রয়েছে। আসাদ সরকারের পতনের পর তিনি দেশের ক্ষমতার কেন্দ্রে উঠে আসেন।

বিশ্লেষকদের মতে, আসাদ ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের বিরুদ্ধে এই রায় শুধু একটি ফৌজদারি বিচার নয়; সিরিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক সংকটের পর ক্ষমতার রূপান্তর ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে বাস্তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা এবং বিদেশে অবস্থানরত আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনা কতটা সম্ভব হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। রায় বাস্তবায়নের পাশাপাশি নতুন সিরিয়ার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও সরকারকে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে।