প্রযুক্তির চাপে ফিকে হতে বসা পাঠাভ্যাসকে চাঙ্গা করতে এবং আড্ডা-রসনার মাঝে বই পড়ার আবহ ফিরিয়ে আনতে ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ নিয়েছে ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশান। হোটেলের লবি ক্যাফে ‘দ্য ডেলি’-তে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে বই ও পাঠ সংস্কৃতি কেন্দ্রিক নতুন পরিসর ‘ফ্লোর’ (FLOR – For Love of Reading)। সাহিত্য, রসনা আর সংস্কৃতির মেলবন্ধনে গড়ে তোলা এই পরিসরের উদ্বোধনের পাশাপাশি উন্মোচন করা হয়েছে ক্যাফের নতুন খাবারের মেনুও।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাহিত্য, শিল্পকলা, প্রকাশনা ও আতিথেয়তা খাতের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। কবি ও প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ প্রধান অতিথি হিসেবে ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশানের জেনারেল ম্যানেজার কার্থি ভিকে-কে সঙ্গে নিয়ে নতুন এই কর্নারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
ব্যস্ত শহুরে জীবন থেকে সামান্য বিরতি নিয়ে বইয়ের ভুবনে ডুব দেওয়ার সহজ লক্ষ্য নিয়ে সাজানো হয়েছে ‘ফ্লোর’। এখানে স্থান পেয়েছে নেতৃত্ব, কথাসাহিত্য ও সমকালীন রাজনীতিসহ সাতটি ভিন্ন ধারার বাছাই করা বই। এখানে নিয়মটি খুব সহজ—কফির কাপে চুমুক দিতে দিতে পছন্দমতো একটি বই পড়া এবং পড়া শেষে যথাস্থানে রেখে দেওয়া। পাঠকরা চাইলে ‘TOLO’ (Take One, Leave One) বা ‘একটি নিন, একটি দিন’ নীতিতে নিজের বই বদলে নতুন বইও সংগ্রহ করতে পারবেন।
উদ্যোগটি নিয়ে ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশানের জেনারেল ম্যানেজার কার্থি ভিকে বলেন, ডিজিটাল পর্দার আধিপত্যের এই যুগে তারা মানুষকে কিছুটা থমকে দাঁড়িয়ে বইয়ের সৌরভ উপভোগ করার সুযোগ করে দিতে চান। তিনি মনে করেন, এই উদ্যোগ হোটেলের চার দেয়ালের গণ্ডি পেরিয়ে এক জীবন্ত পাঠকসমাজ গড়ে তুলতে সহায়ক হবে। বাণিজ্যিক কিংবা আনুষ্ঠানিক মিটিংয়ের ফাঁকে আসা অতিথিরাও এখানে মানসিক প্রশান্তি ও চিন্তা বিনিময়ের সুযোগ পাবেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কবি ও সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ বলেন, বই থেকে দূরে সরে যাওয়া মানে জাতির বুদ্ধিবৃত্তিক ও সভ্যতাগত ঐতিহ্য থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া। জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে বইয়ের বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, বই মানুষকে প্রশ্ন করতে, কৌতূহলী হতে এবং চিন্তার সীমানা প্রসারিত করতে শেখায়। ‘ফ্লোর’-এর মতো উদ্যোগ আধুনিক মানুষকে জ্ঞান ও ভাবনার মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ক্যাফের নতুন মেনুর সাথে ওয়েসিস লাউঞ্জে আয়োজন করা হয় এক বিশেষ হাই টি। সেখানে লেখক, প্রকাশক ও গণমাধ্যমকর্মীরা সমকালীন জীবনে পাঠাভ্যাসের পরিবর্তনশীল ভূমিকা ও সংস্কৃতির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রাণবন্ত আড্ডায় মেতে ওঠেন।



