ছোট্ট শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যাসহ দেশজুড়ে চলমান নারী ও শিশুদের ওপর বর্বরোচিত সহিংসতা, নিপীড়ন প্রতিরোধ এবং দ্রুততম সময়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) চত্বরে এক বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে, ২০২৬) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনের ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধনে বক্তারা দেশজুড়ে আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়া নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধে সরকারকে অবিলম্বে যুগোপযোগী ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ দেন এবং রামিসা হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত মূল আসামিদের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের জোর দাবি জানান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সম্মিলিত সহযোগিতায় এবং ‘সংগঠক গ্রুপ’-এর মূল ব্যানারে এই ব্যতিক্রমী প্রতিবাদী মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। কর্মসূচি চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শত শত সাধারণ শিক্ষার্থী ব্যানার, প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন হাতে মহাসড়কের পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে অপরাধের বিরুদ্ধে একাত্মতা প্রকাশ করেন। সাধারণ শিক্ষার্থীদের এই স্বতঃস্ফূর্ত দাবির সাথে সংহতি জানিয়ে মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত সহকারী প্রক্টর ড. মো. গাজী সাখাওয়াত হোসেন সশরীরে উপস্থিত হয়ে একাত্মতা ঘোষণা করেন।
মানববন্ধনে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ বেলাল বলেন, “নতুন সরকার গঠনের পর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এবং সংস্কারের স্বার্থে আমরা শিক্ষার্থীরা রাস্তায় আসিনি, সরকারকে পর্যাপ্ত সময় দিয়েছি। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে সমাজ ও রাষ্ট্রে অপরাধীরা পার পেয়ে যাবে। আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে স্পষ্ট আহ্বান জানাচ্ছি, সংবিধানে আইনের যে শাসন ও মৌলিক অধিকারের কথা বলা আছে, তা যেন শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থাকে। রামিসাসহ দেশজুড়ে যতগুলো শিশু ও নারী হত্যার ঘটনা ঘটেছে, তার প্রত্যেকটির দ্রুততম সময়ে বিচার করতে হবে; আমরা আর কোনো মায়ের বুক খালি দেখতে চাই না।”
একই সুর মিলিয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির (BUDS) সভাপতি মো. মেহেদী হাসান সোহাগ এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, বিচারহীনতার দীর্ঘ সংস্কৃতির কারণেই অপরাধীরা বারবার পার পেয়ে আরও বেশি ভয়ংকর ও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। শুধু গ্রেপ্তার করাই যথেষ্ট নয়, বরং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দৃশ্যমান করতে হবে। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থান পরিষ্কার করে সহকারী প্রক্টর ড. মো. গাজী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “আমি আজ এখানে প্রক্টর হিসেবে নয়, বরং এই বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সাবেক শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিক হিসেবে নৈতিক দায়বদ্ধতা থেকে দাঁড়িয়েছি। আমরা আর রাস্তায় নেমে আন্দোলন করতে চাই না, কোনো সামাজিক বিশৃঙ্খলাও আমাদের কাম্য নয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আমাদের অনুরোধ, দ্রুত ও কঠোর বিচার নিশ্চিত করে একটি নিরাপদ সমাজ বিনির্মাণের নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করুন।”



