― Advertisement ―

ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক সংস্কারের হাওয়া; সাধারণ ক্ষমায় মুক্তি পাচ্ছেন প্রবীণ, অসুস্থ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক ৩০০ বন্দি

দক্ষিণ আমেরিকার রাজনৈতিকভাবে উত্তপ্ত দেশ ভেনেজুয়েলা তাদের চলমান অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংস্কারের অংশ হিসেবে চলতি সপ্তাহে সাধারণ ক্ষমা আইনের আওতায় ৩০০ জন বন্দিকে কারামুক্তি দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মে, ২০২৬) ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদের (National Assembly) প্রধান হোর্হে রদ্রিগেজ রাজধানী কারাকাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করেন। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমন এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জাতীয় পরিষদের প্রধান হোর্হে রদ্রিগেজ তাঁর বিবৃতিতে জানান, চলতি সপ্তাহের সোমবার থেকে শুরু করে আগামী শুক্রবারের মধ্যে অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে ধাপে ধাপে এই ৩০০ বন্দিকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হবে। মানবিক দিক বিবেচনা করে এবারের মুক্তিপ্রাপ্তদের তালিকায় বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে অপ্রাপ্তবয়স্ক বা শিশু-কিশোর, ৭০ বছরের বেশি বয়সী প্রবীণ নাগরিক এবং দীর্ঘ দিন ধরে বিভিন্ন জটিল ও মারাত্মক রোগে আক্রান্ত অসুস্থ বন্দিদের। এর পাশাপাশি এই ক্ষমার আওতায় দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে অর্থাৎ ২০০৩ সাল থেকে কারাবন্দি থাকা তিনজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তাও অবমুক্ত হতে যাচ্ছেন।

ভেনেজুয়েলার বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ ক্ষমতা গ্রহণের পর দেশে বড় ধরনের রাজনৈতিক ও সামাজিক সংস্কারের উদ্যোগ নেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ফেব্রুয়ারি মাসে দেশটির আইনসভায় এই বিশেষ সাধারণ ক্ষমা আইন পাস ও কার্যকর করা হয়। এই বিশেষ আইনের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো— বিগত বছরগুলোতে বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলন, সরকারবিরোধী বিক্ষোভ বা ভিন্নমতের কারণে আইনি গ্যাঁড়াকলে পড়ে আটক হওয়া ব্যক্তিদের দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া এবং মুক্তির সুনির্দিষ্ট সুযোগ তৈরি করে দেওয়া।

তবে সরকারের এই গণমুক্তির পদক্ষেপকে ইতিবাচক মনে করলেও আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠনগুলো পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারছে না। ভেনেজুয়েলাভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘ফোরো পেনাল’-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সরকারের এই ঘোষণার পরও দেশের বিভিন্ন কারাগারে এখনও শত শত রাজনৈতিক বন্দি মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনেক বন্দির মুক্তির আবেদন আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় ঝুলে আছে এবং বেশ কিছু ক্ষেত্রে আবেদন সরাসরি প্রত্যাখ্যানও করা হয়েছে। একই সাথে আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল’ ও ‘হিউম্যান রাইটস ওয়াচ’ জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত হাজারো মানুষ এই আইনের সুবিধা পেলেও পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য সব রাজনৈতিক বন্দির নিঃশর্ত মুক্তি প্রয়োজন।