― Advertisement ―

পারভীন হত্যা: খুনি রসু খাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল হাই কোর্টে

চাঁদপুরের পারভীন হত্যা মামলায় আলোচিত খুনি রসু খাঁর মৃতুদণ্ড বহাল রেখেছে হাই কোর্ট।মঙ্গলবার বিচারপতি সৈয়দ মো. জিয়াউল করিম ও বিচারপতি কে এম ইমরুল কায়েশের...

ছুরিকাঘাতে বিকাশ কর্মীর দেড় লাখ টাকা ছিনতাই

দিনাজপুরের হিলিতে প্রকাশ্য দিবালোকে বা সন্ধ্যার ঠিক মুখে এক মারাত্মক ও বর্বরোচিত ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। নাজমুল হোসেন (২৭) নামের এক মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস বা ‘বিকার্স’ কর্মীকে চলন্ত অবস্থায় মোটরসাইকেল থামিয়ে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করেছে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত। এরপর তার কাছে থাকা প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ভর্তি একটি ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে বীরদর্পে চম্পট দেয় তারা। বৃহস্পতিবার (২১ মে, ২০২৬) সন্ধ্যা ঠিক ৭টার দিকে হাকিমপুর উপজেলার বোয়ালদাড় ইউনিয়নের জালালপুর ব্রিজ সংলগ্ন একটি নির্জন ও অন্ধকারাচ্ছন্ন এলাকায় এই লোমহর্ষক অপরাধটি সংঘটিত হয়। গুরুতর রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি বিভাগে ভর্তি করেছেন।

তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, গুরুতর আহত ও চিকিৎসাধীন ওই বিকাশ কর্মীর নাম নাজমুল হোসেন। তিনি পার্শ্ববর্তী বিরামপুর উপজেলার কাটলা ইউনিয়নের দাউদপুর নামক গ্রামীণ এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা সুলতান হোসেনের জ্যেষ্ঠ পুত্র। নাজমুল দীর্ঘদিন ধরে হিলি ও বিরামপুর সীমান্তের বিভিন্ন বাণিজ্যিক পয়েন্টে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের এজেন্টদের কাছ থেকে ক্যাশ ইন ও ক্যাশ আউট সম্পর্কিত বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেনের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। প্রতিদিনের মতো আজকেও তিনি ব্যবসায়িক কাজ শেষে হিলি সদরের দিকে ফিরছিলেন, ঠিক তখনই ওত পেতে থাকা ছিনতাইকারী চক্রটি তার ওপর এই আকস্মিক ও প্রাণঘাতী হামলা চালায়।

হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে তীব্র যন্ত্রণায় কাতরানো আহত বিকাশ কর্মী নাজমুল হোসেন সেদিনের ভয়াবহ বিবরণ দিয়ে বলেন, “আমি ছাতনী চারমাথা এলাকার বিভিন্ন দোকান ও এজেন্টদের সাথে সফলভাবে টাকা লেনদেন ও কালেকশন শেষ করে মোটরবাইক নিয়ে হিলি বাজারের দিকে ফিরছিলাম। পথে জালালপুর ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছানো মাত্রই পেছন থেকে একটি দ্রুতগামী মোটরসাইকেলে করে হেলমেট পরিহিত দুই অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি এসে আমার চলন্ত বাইকের পথ রোধ করে দাঁড়ায়। আমি কিছু বুঝে ওঠার আগেই একজন তার কোমর থেকে ধারালো ছুরি বের করে আমার বুকে ও পেটে আঘাত করে। আমি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তারা আমার কাঁধে থাকা টাকার ব্যাগটি কেটে নিয়ে দ্রুত গতিতে হিলির সীমান্তের দিকে পালিয়ে যায়।”

এই দুর্ধর্ষ ছিনতাইয়ের খবর পাওয়ার সাথে সাথেই হাকিমপুর থানা পুলিশের একটি বিশেষ স্ট্রাইকিং ফোর্স দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যায়। হাকিমপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুজা মিয়া সংবাদমাধ্যমকে জানান, ঘটনার পর পরই জালালপুর রোড এবং এর আশপাশের সমস্ত এক্সিট পয়েন্টে পুলিশের নিরাপত্তা চৌকি ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ সংগ্রহ করে অপরাধীদের নিখুঁতভাবে শনাক্ত করার জন্য পুলিশের একটি ডিটেকটিভ টিম তৎপরতা শুরু করেছে। পুলিশের এই কর্মকর্তা আশ্বস্ত করে বলেন, “ছিনতাইকারীদের দ্রুততম সময়ে গ্রেপ্তার করে কঠোর আইনি আওতায় আনা হবে এবং লুণ্ঠিত দেড় লাখ টাকা উদ্ধারে আমাদের চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”