ঝালকাঠির গাবখান ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের ওস্তাখান গ্রামের প্রতিবেশী দুই সনাতন পরিবারের মধ্যে জমিজমার বিরোধকে কেন্দ্র করে কানাই লাল হাওলাদার ও তার ছেলেরা প্রতিপক্ষ সুভাষ হাওলাদারের ঘরে ঢুকে নারীসহ ৪ জনকে কুপিয়ে জখম করেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী সুভাষ হাওলাদারের জামাই অসীম হালদার।
সকাল ১১টায় আহতদের মধ্যে গুরুতর তিনজনকে প্রথমে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে আনলে জরুরিভাবে রক্তক্ষরণ বন্ধ করে ব্যান্ডেজ ও স্যালাইন দিয়ে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আহতরা হলেন- সুভাষ হাওলাদার, সৌরভ হাওলাদার, সুজন হাওলাদার ও বিউটি রানী। গুরুতর তিনজনকে বরিশালে পাঠানোর পরে বিউটি রানীকেও চিকিৎসার জন্য বরিশালে নেওয়া হয়।
রক্তাক্ত অবস্থায় আহতদের চিৎকার শুনে প্রথমে উদ্ধার করেন ‘বল্লব বাড়ির’ প্রতিবেশী প্রদীপ। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় দ্রুত তিনি সবাইকে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। তিনি জানান, সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর শুনি- আহতরা চিৎকার দিয়ে বলছিলো, আমাদের বাঁচাও। অভিযুক্ত কানাই হাওলাদারের বাড়িও পাশাপাশি স্থানেই বলে জানান তিনি।
ভুক্তভোগী সুভাষ হাওলাদারের মেয়েজামাই অসীম হালদার জানান, “আমার শ্বশুরের জায়গা কানাই লাল ও তার পরিবার জোর করে ভোগ করছে। আজ সকালে কানাই, তার ছেলে কমল, কিশোর এবং স্থানীয় মৃণাল এই চারজন মিলে আমার শ্বশুরের ঘরে ঢুকে চারজনকে কুপিয়েছে। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় সবাইকে ঝালকাঠি হাসপাতাল থেকে বরিশালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
ঝালকাঠি সদর থানার ওসি (তদন্ত) মেহেদী হাসান জানান, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে একটি এজাহার লেখা হচ্ছে। অপর পক্ষের অভিযুক্ত কানাই লালের স্ত্রী সাধনা হালদারকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। আহত চারজনের মধ্যে আশঙ্কাজনক একজনকে ঢাকা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। কোপের কারণে তার মাথায় গভীর ক্ষত আছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
অন্যদিকে পুলিশ হেফাজতে থাকা সাধনা হালদারও দাবি করেছেন তার স্বামী কানাই লালও আহত হয়েছেন এবং তাকেও বরিশালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।



