― Advertisement ―

পারভীন হত্যা: খুনি রসু খাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল হাই কোর্টে

চাঁদপুরের পারভীন হত্যা মামলায় আলোচিত খুনি রসু খাঁর মৃতুদণ্ড বহাল রেখেছে হাই কোর্ট।মঙ্গলবার বিচারপতি সৈয়দ মো. জিয়াউল করিম ও বিচারপতি কে এম ইমরুল কায়েশের...

‘ভুল ইনজেকশন’ নাকি ‘মারামারির আঘাত’? ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুকে ঘিরে ধোঁয়াশা

ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে ভুল চিকিৎসায় এক নারী রোগীর মৃত্যুর অভিযোগকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের স্বজনদের দাবি, কর্তব্যরত নার্স একটি ইনজেকশন পুশ করার পরপরই তীব্র যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ওই নারী। বৃহস্পতিবার (২১ মে, ২০২৬) সকালের এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতালের ভেতরে কান্নার রোল পড়ে এবং নিহতের স্বজনেরা হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। খবর পেয়ে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ঝালকাঠি সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

নিহত ওই নারী রোগীর নাম হামিদা (৪৭)। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঝালকাঠি জেলা শহরের মুসলিমপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসায় স্থায়ীভাবে বসবাস করে আসছিলেন। তবে তাঁর আদি পৈতৃক ভিটা নারায়ণগঞ্জ জেলায় এবং তিনি মৃত আবুল কাশেমের স্ত্রী। পারিবারিক ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শারীরিক তীব্র সমস্যাজনিত কারণে গত ১৮ মে হামিদাকে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছিল। ভর্তির পর থেকে তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল থাকলেও আজ সকালে এক নার্স এসে যখন তাঁর শরীরে নিয়মিত চিকিৎসার অংশ হিসেবে একটি ইনজেকশন পুশ করেন, তখনই ঘটে এই মর্মান্তিক বিপত্তি।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নিহতের স্বজনেরা অভিযোগ করে বলেন, হাসপাতালে ভর্তির পর হামিদার অবস্থা তুলনামূলকভাবে ভালো ছিল এবং তিনি স্বাভাবিক কথাবার্তাও বলছিলেন। কিন্তু আজ সকালে নার্স ইনজেকশনটি দেওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই হামিদা আকস্মিকভাবে তীব্র শারীরিক অস্বস্তি প্রকাশ করেন এবং বিছানায় ছটফট করতে শুরু করেন। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই নার্স ও চিকিৎসকদের কোনো রেসপন্স পাওয়ার আগেই তিনি মারা যান। স্বজনদের অভিযোগ, ইনজেকশনের গুণগত মান কিংবা ভুল ডোজের কারণেই এই আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে এবং এর পেছনে সংশ্লিষ্ট নার্স ও চিকিৎসকদের অবহেলা স্পষ্ট।

তবে চিকিৎসার গাফিলতির এই গুরুতর অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. সানি জানান, হামিদাকে যে ওষুধটি দেওয়া হয়েছিল তা মূলত একটি সাধারণ গ্যাসের ইনজেকশন (এন্টি-আলসারেন্ট), যার কোনো মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা মৃত্যুর কারণ থাকার কথা নয়। তিনি আরও প্রকাশ করেন যে, নিহত রোগী মূলত একটি মারামারির ঘটনার ইনজুরি নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন এবং পুলিশকে বিষয়টি আইনি পর্যালোচনার জন্য অবহিত করা হয়েছে। ঝালকাঠি সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম জানান, পুলিশ লাশ উদ্ধার করেছে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনার ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।