― Advertisement ―

কাঠমান্ডুতে ১৮ কোটি টাকার ক্রিপ্টো জালিয়াতি: পুলিশের জালে চীনা নাগরিক

নেপালের পর্যটন কেন্দ্র থামেলে এক বিশাল ক্রিপ্টোকারেন্সি জালিয়াতি চক্রের সন্ধান পেয়েছে স্থানীয় পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল ২০২৬) কাঠমান্ডুর এই এলাকা থেকে ৩৫ বছর বয়সী ঝু ই-এং নামক এক চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার ডিজিটাল মুদ্রা জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। প্রাথমিক তদন্ত শেষে পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত ব্যক্তির কাছ থেকে উদ্ধার করা তথ্যে প্রায় ১৭ কোটি ৯৯ লাখ ৭০ হাজার নেপালি রুপির অবৈধ লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। রাজধানী কাঠমান্ডুতে বিদেশের নাগরিকদের এমন ডিজিটাল জালিয়াতিতে জড়িয়ে পড়ার ঘটনাটি স্থানীয় প্রশাসনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঝু ই-এং অত্যন্ত সুকৌশলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে সাধারণ নেপালি নাগরিকদের ফাঁদে ফেলতেন। তিনি বিনিয়োগের ওপর আকাশচুম্বী মুনাফার লোভ দেখিয়ে মানুষের বিশ্বাস অর্জন করতেন এবং পরবর্তীতে সেই অর্থ ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে সরিয়ে ফেলতেন। কাঠমান্ডু জেলা পুলিশ সার্কেলের মুখপাত্র পাবন কুমার ভট্টরাই জানান, গ্রেপ্তারের সময় ঝুর কাছ থেকে তিনটি দামী স্মার্টফোন এবং জালিয়াতি সংক্রান্ত অসংখ্য গোপন নথি ও ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ জব্দ করা হয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে গোয়েন্দারা।

নেপালি আইন অনুযায়ী দেশটিতে ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। অভিযুক্ত ঝুকে বর্তমানে কাঠমান্ডু জেলা আদালতের নির্দেশে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ মনে করছে, এটি কোনো আন্তর্জাতিক চক্রের অংশ হতে পারে, যারা নেপালের সরল নাগরিকদের লক্ষ্য করে তাদের অবৈধ কার্যক্রম চালাচ্ছে। অভিযুক্তের মোবাইল ফোনগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে যাতে তাঁর লেনদেনের নেটওয়ার্ক এবং অন্যান্য সহযোগীদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

এই গ্রেপ্তারের পর কাঠমান্ডু পুলিশ নাগরিকদের অপরিচিত কোনো বিনিয়োগ প্রস্তাব বা অনলাইন লেনদেনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিদেশী নাগরিকদের লোভনীয় প্রস্তাবে পা না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই মামলাটি নেপালের সাইবার অপরাধ দমনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ এতে বিপুল পরিমাণ অর্থের ডিজিটাল পাচারের প্রমাণ পাওয়া গেছে।