ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ভয়াবহ হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল ২০২৬) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি স্পষ্ট করে জানান, ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং বড় বড় সেতুগুলোই হতে যাচ্ছে পেন্টাগনের পরবর্তী লক্ষ্যবস্তু। ট্রাম্পের ভাষায়, “ইরানে যা অবশিষ্ট আছে, তা ধ্বংস করা আমরা এখনো শুরুই করিনি।” এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধকে এক নতুন এবং ভয়াবহ মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
গত বুধবার এক টেলিভিশন ভাষণে ট্রাম্প আরও কঠোর অবস্থান নিয়ে বলেন, ওয়াশিংটনের শর্ত মানতে ব্যর্থ হলে আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরানের জ্বালানি ও তেল খাত লক্ষ্য করে এমন আক্রমণ চালানো হবে যা দেশটিকে কয়েক দশক পিছিয়ে ‘প্রস্তর যুগে’ নিয়ে যাবে। তিনি সরাসরি ইরানি নেতৃত্বকে উদ্দেশ্য করে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে হলে তাদের দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের এই ছায়াযুদ্ধ এখন সরাসরি ধ্বংসলীলায় রূপ নিয়েছে।
তবে ট্রাম্পের এই ক্রমাগত হুমকির মুখে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী বেসামরিক জনগণের জন্য অপরিহার্য স্থাপনায় (বিদ্যুৎ বা যোগাযোগের মাধ্যম) হামলা চালানো আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন। একদল আইন বিশেষজ্ঞ ইতিমধ্যে একটি খোলা চিঠিতে সতর্ক করেছেন যে, ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা কার্যকর হলে তা সরাসরি ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে গণ্য হবে। ১৯৪৯ সালের আন্তর্জাতিক নীতিমালা অনুযায়ী সামরিক ও বেসামরিক লক্ষ্যের মধ্যে পার্থক্য বজায় রাখা বাধ্যতামূলক, যা ট্রাম্পের বক্তব্যে উপেক্ষিত হয়েছে।
এই সামরিক উত্তজনা কেবল মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং বিশ্ব অর্থনীতিতেও কালো ছায়া ফেলেছে। ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের পর এটিকে সবচেয়ে বড় সামরিক সংঘাত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। ট্রাম্পের ‘পরস্পরবিরোধী’ ও আক্রমণাত্মক কূটনীতি পরিস্থিতিকে এমন এক পর্যায়ে নিয়ে গেছে যেখান থেকে কূটনৈতিক প্রত্যাবর্তনের পথ ক্রমশ সংকীর্ণ হয়ে আসছে।



