বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী পদোন্নতির দাবিতে শিক্ষকদের আন্দোলনে এক চরম প্রশাসনিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। সোমবার (১১ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৬ জন শিক্ষকের উপস্থিতিতে আয়োজিত এক সাধারণ সভায় বর্তমান সংকট নিরসনে দুটি প্রধান দাবি উত্থাপন করা হয়। শিক্ষকরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, ২০১৫ সালের বিদ্যমান পদোন্নতি নীতিমালা মেনেই তাঁদের পদোন্নতি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সিন্ডিকেট সভায় গৃহীত ‘অভিন্ন নীতিমালার’ আলোকে নতুন সংবিধি প্রণয়নের যে কোনো উদ্যোগ অবিলম্বে বাতিল করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
সাধারণ সভায় গৃহীত রেজুলেশন অনুযায়ী, শিক্ষকরা মনে করছেন নতুন নীতিমালা কার্যকর হলে তাঁদের পেশাগত অধিকার ক্ষুণ্ণ হবে। এই দাবিতে শিক্ষকদের একটি বড় অংশ উপাচার্যকে (ভিসি) ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন। আন্দোলনের তীব্রতা এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যে, ক্ষুব্ধ শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়েছে, যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যেও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
সংকটের গভীরতা আরও স্পষ্ট হয়েছে শিক্ষকদের গণপদত্যাগের মধ্য দিয়ে। জানা গেছে, প্রশাসনিক ও একাডেমিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা শিক্ষকরা ইতিমধ্যে পদত্যাগ করা শুরু করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি উপেক্ষা করে একতরফা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এই গণপদত্যাগ ও দপ্তরে তালা দেওয়ার ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চেইন অফ কমান্ডকে কার্যত অচল করে দিয়েছে।
উপাচার্যকে কেন্দ্র করে এই অসন্তোষ এখন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে শিক্ষা অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত বনাম শিক্ষকদের পুরনো নীতিমালার এই দ্বন্দ্বে কোনো পক্ষই এখনও ছাড় দিতে রাজি নয়। চলমান এই অচলাবস্থা নিরসনে দ্রুত কোনো ফলপ্রসূ আলোচনা না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ক্যালেন্ডার বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।



