যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সংশ্লিষ্টতা বিষয়ক প্রায় ৩৫ লাখ পৃষ্ঠার নথির এক বিশাল প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। একটি অস্থায়ী পাঠকক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ কর্তৃক প্রকাশিত এসব নথির মুদ্রিত কপি জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। ‘ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প ও জেফরি এপস্টেইন স্মারক পাঠকক্ষ’ শিরোনামের এই অভিনব আয়োজনটি করেছে দেশটির স্বচ্ছতা বিষয়ক সংস্থা ‘ইনস্টিটিউট ফর প্রাইমারি ফ্যাক্টস’। জনস্বার্থ ও তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।
সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘এপস্টেইন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট’-এর অধীনে অবমুক্ত করা কয়েক মিলিয়ন নথিকে ৩ হাজার ৪৩৭টি বিশাল বাঁধাই করা খণ্ডে সাজানো হয়েছে। প্রতিটি খণ্ডকে নির্দিষ্ট নম্বর দিয়ে সারিবদ্ধভাবে তাকে সাজিয়ে রাখা হয়েছে, যা দর্শকদের জন্য একটি গবেষণাগারের আবহ তৈরি করেছে। মূলত প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সাথে এপস্টেইনের গোপন যোগসাজশের গভীরতা কতখানি ছিল, তা সাধারণ মানুষের সামনে দৃশ্যমান করাই এই প্রদর্শনীর অন্যতম উদ্দেশ্য।
জেফরি এপস্টেইন ছিলেন একজন ধনকুবের বিনিয়োগকারী, যার বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীদের পাচার ও যৌন নির্যাতনের ভয়াবহ অভিযোগ ছিল। ২০১৯ সালে কারাগারে তাঁর রহস্যজনক মৃত্যুর পরও তাঁর সাথে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিক, ব্যবসায়ী এবং প্রভাবশালীদের সখ্য নিয়ে বিতর্ক থামেনি। বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ অন্যান্য হাই-প্রোফাইল ব্যক্তিদের নাম এই নথিপত্রে বারবার উঠে আসায় মার্কিন রাজনীতিতে এটি একটি সংবেদনশীল ইস্যু হিসেবে দাঁড়িয়েছে। প্রদর্শনীটি এই বিতর্কিত সম্পর্কগুলোর তথ্যগত প্রমাণ সরাসরি দেখার সুযোগ করে দিচ্ছে।
আগামী ২১ মে পর্যন্ত দর্শনার্থীরা নিউইয়র্কের এই প্রদর্শনীতে গিয়ে নথিগুলো নিজ চোখে দেখার এবং পড়ার সুযোগ পাবেন। হাজার হাজার পৃষ্ঠার এই নথিপত্র এক জায়গায় জড়ো করার মাধ্যমে স্বচ্ছতার এক নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করতে চায় ইনস্টিটিউট ফর প্রাইমারি ফ্যাক্টস। প্রভাবশালী মহলের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং ঐতিহাসিক এই অপরাধের নথিবদ্ধ প্রমাণগুলো সংরক্ষণের তাগিদ থেকেই এই বিশেষ পাঠকক্ষটি স্থাপন করা হয়েছে।



