দেশের শীর্ষ দুই উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বড় ধরনের প্রশাসনিক রদবদল ঘটেছে। আজ রোববার (১০ মে ২০২৬) পৃথকভাবে পদত্যাগ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমেদ এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. রাহাত হোসাইন ফয়সাল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর তাঁর সিদ্ধান্তকে ব্যক্তিগত ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থিতিশীলতার স্বার্থে দেওয়া ‘স্বেচ্ছিক অবসর’ হিসেবে বর্ণনা করলেও, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেখানে শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের পদোন্নতি সংক্রান্ত আন্দোলনের জের ধরে প্রশাসনের ওপর অনাস্থা জানিয়ে পদত্যাগের ঘটনা ঘটেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমেদ উপাচার্যের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দায়িত্ব গ্রহণ করা এই শিক্ষক জানান, প্রতিকূল সময় পাড়ি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় এখন একটি স্থিতিশীল অবস্থানে পৌঁছেছে। এই মুহূর্তে নতুন নেতৃত্বের হাতে দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়াকেই তিনি শ্রেয় মনে করছেন। পদত্যাগপত্রে তিনি বিগত ২০ মাসের কর্মকালকে গৌরবের বলে উল্লেখ করলেও একাডেমিক কাজে পূর্ণ মনোযোগ দিতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পদত্যাগের বিষয়টি বেশ নাটকীয় ও সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেয়। সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষকদের পদোন্নতির দাবিতে আন্দোলন চললেও উপাচার্যের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর সমাধান আসেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। ৯৪তম সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষকদের পদোন্নতি না হওয়ার সিদ্ধান্তের পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন আন্দোলনকারীরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসনের কার্যক্রমে হতাশা ব্যক্ত করে প্রক্টর ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল তাঁর পদ থেকে সরে দাঁড়ান। একইসাথে সিন্ডিকেট সদস্যের পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেছেন আরেক সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানভীর কায়ছার।
এই জোড়া পদত্যাগ দেশের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ সংকট ও চ্যালেঞ্জগুলোকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। একদিকে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রচেষ্টা, অন্যদিকে শিক্ষকদের অধিকার আদায়ের লড়াই—দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষাপট প্রশাসনিক কাঠামোতে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে। উপাচার্যরা যদিও বিষয়টিকে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখছেন, তবে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে এই রদবদল নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান আন্দোলন ক্লাস ও পরীক্ষার ওপর কতটা প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।



