― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

হামের উপসর্গে আরও ৬ মৃত্যু; আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়াল ৫০ হাজার

দেশে হামের সংক্রমণ পরিস্থিতি ক্রমে উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। যদিও এই সময়ে ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হওয়া হামে কোনো প্রাণহানি ঘটেনি, তবে উপসর্গযুক্ত মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। গত মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত সন্দেহভাজন আক্রান্তের সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্যে এই ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সোমবারের (১১ মে ২০২৬) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে ৬৫ জন মারা গেছেন। তবে উপসর্গ ও সন্দেহভাজন মৃত্যুর হিসাব আমলে নিলে এই সংখ্যা ৩৫০ জনে দাঁড়ায়। চিকিৎসকদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সক্ষমতা রাখে। সঠিক সময়ে টিকাদান নিশ্চিত না হওয়া এবং জনসচেতনতার অভাবকে এই মহামারীতুল্য পরিস্থিতির অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি ও সুস্থতার হারের দিকে তাকালে দেখা যায়, এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৬ হাজার মানুষ হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছেন। এর মধ্যে প্রায় ৩২ হাজার রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। ল্যাবে পরীক্ষার মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ৬ হাজার ৯৩৭ জনের শরীরে হামের জীবাণু নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে সন্দেহভাজন আক্রান্তের সংখ্যা ৫০ হাজার ৫০০ জন হওয়া ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, প্রকৃত সংক্রমণের মাত্রা আরও অনেক বেশি হতে পারে।

সারাদেশের স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোকে সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হামের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে এবং শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনতে জোর দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মাঠপর্যায়ে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি টিকাদান কার্যক্রম আরও বেগবান করার পরিকল্পনা করছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আক্রান্ত রোগীদের আইসোলেশন নিশ্চিত করা এবং জটিলতা এড়াতে সঠিক পুষ্টি ও তরল খাবার গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।