গাজীপুরের কাপাসিয়ায় মা, তিন সন্তান ও মামাসহ একই পরিবারের পাঁচজনকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় তিন দিন পার হলেও প্রধান অভিযুক্ত ফোরকান মিয়াকে (৪০) গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। গত শনিবার সকালে রাউৎকোনা গ্রামের একটি ভাড়া বাড়ি থেকে এই পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘাতক ফোরকান পেশায় একজন গাড়িচালক এবং নিহত শারমিন আক্তারের স্বামী। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক। পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালালেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বাড়ছে।
এই হত্যাকাণ্ডের ধরনে এক রহস্যময় প্রেক্ষাপট উঠে এসেছে। উদ্ধারের সময় নিহত শারমিনের নিথর দেহে নতুন শাড়ি, গয়না এবং হাতে চুড়ি পরানো ছিল। পরিবারের সদস্যদের দাবি, হত্যার আগে ফোরকান সবাইকে নিয়ে ঘুরতে বেরিয়েছিলেন এবং শারমিন তখন ওই পোশাকেই ছিলেন। তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনদের অনেকের মনে সংশয় তৈরি হয়েছে যে, ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে বা কোনো ‘নাটক’ সাজাতে হত্যার পর পরিকল্পিতভাবে মরদেহ সাজানো হয়ে থাকতে পারে। একজন ব্যক্তির পক্ষে একা পাঁচজনকে হত্যা করা সম্ভব কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী।
ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, খুনের আগে ভুক্তভোগীদের নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে অচেতন করা হয়ে থাকতে পারে। ফরেনসিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দুই বছরের শিশু ফারিয়াকে শ্বাসরোধ করে এবং অন্যদের ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। বিশেষ করে বড় মেয়ে মীম খানম বাধা দেওয়ার চেষ্টা করায় তার হাতে ও মুখে গভীর ক্ষত পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থল থেকে ফোরকানের লেখা একটি স্বাক্ষরবিহীন অভিযোগপত্র উদ্ধার করা হয়েছে, যেখানে তিনি স্ত্রী ও শ্বশুরের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ এনেছিলেন। তবে নিহতের পরিবার একে নিজেকে বাঁচানোর অপকৌশল হিসেবে অভিহিত করেছে।
পারিবারিক কলহ এবং ফোরকানের দ্বিতীয় বিয়ের ইচ্ছা থেকেই এই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার পর ফোরকান তাঁর ভাইকে ফোন করে সবাইকে মেরে ফেলার কথা স্বীকার করলেও পুলিশ এখনো তাকে খুঁজে পায়নি। অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনকে আসামি করে মামলা করা হলেও মূল হোতা ধরা না পড়ায় তদন্ত থমকে আছে। একটি সাজানো গোছানো সুখী পরিবারের এমন মর্মান্তিক সমাপ্তি এখন কেবল কাপাসিয়া নয়, পুরো দেশের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।



