পশ্চিমবঙ্গে নবনির্বাচিত বিজেপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই জনপথ ও সাধারণ রাস্তায় ধর্মীয় জমায়েত বা উপাসনা নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকের পর এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ্যে আসে। বিধায়ক অর্জুন সিং সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, এখন থেকে সড়ক আটকে নামাজ বা অন্য কোনো ধর্মীয় আচার পালন বরদাশত করা হবে না। জননিরাপত্তা ও নিরবচ্ছিন্ন যান চলাচল নিশ্চিত করতেই প্রশাসন এমন কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে বলে সরকারি সূত্রে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক এই আদেশের বিষয়ে পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্দেশিকাটি কেবল নির্দিষ্ট কোনো ধর্মের জন্য নয়, বরং সব ধরনের রাস্তা আটকানো ধর্মীয় অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। তবে প্রথাগত এবং বিশেষ উৎসব যেমন— দুর্গাপূজা বা ঈদের ক্ষেত্রে যথাযথ পূর্বানুমতি সাপেক্ষে সীমিত পরিসরে ছাড় দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং নাগরিক ভোগান্তি কমাতেই মূলত এই নির্বাহী আদেশ জারি করা হয়েছে। পুলিশ স্পষ্ট করেছে যে, উপাসনা বা ধর্মীয় অনুষ্ঠান নিজ নিজ উপাসনালয়ে করতে কোনো বাধা নেই, তবে তা জনপথের স্বাভাবিক গতি রুদ্ধ করে নয়।
রাস্তায় নামাজের পাশাপাশি কলকাতা বিমানবন্দরের রানওয়ের সন্নিকটে অবস্থিত একটি মসজিদ স্থানান্তরের বিষয়টিও নতুন সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে। বিজেপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, এই মসজিদটি বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে এবং রানওয়ের পূর্ণ ব্যবহার বাধাগ্রস্ত করছে। এ ছাড়া, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে মসজিদের মাইক ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ৬৫ ডেসিবেলের ঊর্ধ্বসীমা কঠোরভাবে বলবৎ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শিখ ধর্মাবলম্বী ব্যতীত অন্য সবার জন্য বাইক চালনার সময় হেলমেট পরিধান বাধ্যতামূলক করার বিষয়টিও পুলিশকে নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
সরকারের এই নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলো মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। অনেক ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা বজায় রাখার উদ্যোগকে সাধুবাদ জানানো হলেও, বিশেষ কোনো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগতে পারে এমন রাজনৈতিক বয়ান থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যে রাস্তা আটকে পূজা বা নামাজ পড়ার যে সংস্কৃতি বিদ্যমান, সেখানে সরকারের এই নতুন প্রশাসনিক সংস্কার কতটা কার্যকর হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। প্রশাসনিক এই রদবদল যানজটমুক্ত কলকাতা গড়ার লক্ষ্যেই গৃহীত হয়েছে বলে সরকারি পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে।



