― Advertisement ―

জ্বালানি আয়ে ধাক্কা দিতে চায় ওয়াশিংটন; নিষেধাজ্ঞার জালে ইরানের তেল ক্রেতা নেটওয়ার্ক

ইরানের তেল রপ্তানি কার্যক্রমের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকার সোমবার (১১ মে, ২০২৬) নতুন করে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান তেহরানের তেল চীনে পাঠাতে সরাসরি সহায়তা করছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র মূলত ইরানের প্রধান আয়ের উৎস জ্বালানি খাতের অর্থপ্রবাহ বন্ধ করতে চায়। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, এই নতুন তালিকায় তিন জন ব্যক্তি এবং নয়টি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যারা ইরানের ওপর আরোপিত পূর্ববর্তী নিষেধাজ্ঞাগুলো ফাঁকি দিয়ে তেল বাণিজ্যে লিপ্ত ছিল।

নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়া নয়টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ভৌগোলিক বৈচিত্র্য লক্ষ্য করা গেছে। এর মধ্যে হংকংভিত্তিক চারটি, সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক চারটি এবং ওমানভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ট্রেজারি বিভাগের দাবি, এই নেটওয়ার্কটি ব্যবহার করে ইরান অত্যন্ত গোপনে বৈশ্বিক বাজারে তাদের অপরিশোধিত তেল সরবরাহ করে আসছিল। ওয়াশিংটন মনে করে, এই তেল বিক্রি থেকে অর্জিত অর্থ তেহরান তাদের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে ব্যয় করে থাকে। বিশেষ করে চীনের মতো বড় বাজারে ইরানের তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বন্ধ করাই এই নিষেধাজ্ঞার মূল লক্ষ্য।

এটি গত এক সপ্তাহের মধ্যে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞার ঘটনা। এর আগে গত শুক্রবার (৮ মে, ২০২৬) ড্রোনের যন্ত্রাংশ এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম কেনায় সহায়তার অভিযোগে বেশ কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। ইরান যাতে তাদের জ্বালানি সম্পদের বিনিময়ে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে সামরিক ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে না পারে, সেজন্য যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বহুমুখী কৌশল গ্রহণ করেছে। এই ধারাবাহিক পদক্ষেপগুলো মূলত তেহরানের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ (Maximum Pressure) বজায় রাখার প্রচেষ্টারই অংশ।

বিশ্লেষকদের মতে, চীনের সাথে ইরানের এই জ্বালানি বাণিজ্যে বাধা দেওয়ার বিষয়টি বেইজিং ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে। চীন দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের তেলের অন্যতম প্রধান ক্রেতা, আর যুক্তরাষ্ট্র এই সরবরাহ চেইনকে অবৈধ বলে মনে করে। এই নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদ বাজেয়াপ্ত হওয়া ছাড়াও তারা বৈশ্বিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে। ওয়াশিংটনের এই কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, তারা ইরানের জ্বালানি রপ্তানি এবং সামরিক অর্থায়নের পথগুলো কোনোভাবেই খোলা রাখতে চায় না।