মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ফুরিয়ে আসায় নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে বৃহস্পতিবার (১৪ মে, ২০২৬) লেবানন ও ইসরায়েলের প্রতিনিধিরা শান্তি আলোচনায় বসতে যাচ্ছেন। কয়েক সপ্তাহ আগে হোয়াইট হাউসের মধ্যস্থতায় যে সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল, তার সময়সীমা শেষ হওয়ার পথে। এই সংকটময় মুহূর্তে নতুন কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো না গেলে পুরো অঞ্চলটি পুনরায় এক ভয়াবহ যুদ্ধের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শান্তি আলোচনার টেবিল যখন প্রস্তুত হচ্ছে, ঠিক তখনই সীমান্তের বাস্তব চিত্র অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি এখনো বিদ্যমান থাকলেও বাস্তবে তার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বুধবার (১৩ মে) লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈরুত সংলগ্ন এলাকা ও দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ২২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। মর্মস্পর্শী বিষয় হলো, নিহতদের মধ্যে আটজনই শিশু। এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত আলোচনার টেবিলে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে কতটা আস্থার পরিবেশ তৈরি করতে পারবে, তা নিয়ে সন্দিহান আন্তর্জাতিক মহল।
ওয়াশিংটনের এই শীর্ষ বৈঠকে মূলত তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করে আলোচনা আবর্তিত হবে: একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কাঠামো তৈরি, বিতর্কিত সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বন্দি বিনিময় প্রক্রিয়া। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র চাচ্ছে এই আলোচনার মাধ্যমে এমন একটি মধ্যমেয়াদী সমাধান বের করতে, যা অন্তত বড় ধরনের কোনো আঞ্চলিক যুদ্ধ প্রতিহত করতে সক্ষম হবে। তবে ইসরায়েলের ক্রমাগত বিমান হামলা ও লেবাননের পাল্টা প্রতিরোধের মুখে এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সফলতা এখন সুতোয় ঝুলছে।
যদি ওয়াশিংটনের এই আলোচনা ব্যর্থ হয়, তবে কেবল লেবানন-ইসরায়েল সীমান্ত নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যেই নতুন করে নিরাপত্তা সংকট দেখা দেবে। এর ফলে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি বাড়বে, অন্যদিকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাও চরম হুমকির মুখে পড়বে। তাই শান্তি আলোচনার এই সুযোগটিকে উভয় পক্ষের জন্য ‘শেষ চেষ্টা’ হিসেবে দেখছেন কূটনীতিবিদরা। এখন দেখার বিষয়, বিশ্বনেতাদের চাপ ও মানবিক বিপর্যয় ঠেকাতে উভয় দেশ কোনো ছাড় দিতে সম্মত হয় কি না।



