― Advertisement ―

পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী; শপথ শনিবার

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পটভূমিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটিয়ে রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার (৮ মে ২০২৬) বিকেলে কলকাতার বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে বিজেপির নবনির্বাচিত বিধায়কদের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে তাঁর নাম ঘোষণা করেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে শুভেন্দু অধিকারীর একক নেতৃত্ব ও প্রভাবের বিষয়টি পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হলো।

বৈঠক সূত্র জানায়, পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব একাধিক প্রস্তাবের সুযোগ রেখেছিলেন। তবে উপস্থিত বিধায়কদের পক্ষ থেকে আসা আটটি প্রস্তাবের প্রতিটিতেই একমাত্র নাম ছিল শুভেন্দু অধিকারী। অন্য কোনো নামের প্রস্তাব না আসায় এবং আরএসএস (RSS)-এর পক্ষ থেকে সবুজ সংকেত মেলায় দল শুভেন্দুর ওপরেই আস্থা জ্ঞাপন করে। অমিত শাহ জানান, বিধায়কদের সর্বসম্মত মতামতের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁর নিজ গড় ভবানীপুরসহ টানা দু’বার পরাজিত করার কৃতিত্বই শুভেন্দুকে এই অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। এছাড়া হিন্দুত্ববাদী সংগঠন আরএসএসের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থাকা এবং তৃণমূল থেকে আসার পর স্বল্প সময়ের মধ্যে বিজেপির সাংগঠনিক কাঠামোয় নিজের প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হওয়াও তাঁর মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পথ প্রশস্ত করেছে। এই পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময়ের তৃণমূল শাসনের অবসান ও গেরুয়া শিবিরের উত্থান চূড়ান্ত রূপ পেতে যাচ্ছে।

আগামী শনিবার (৯ মে ২০২৬) কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান আয়োজিত হবে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ বিজেপির শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে এই মেগা ইভেন্টের প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে গঠিত হতে যাওয়া এই নতুন সরকার পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও প্রশাসনিক সংস্কারে কী ধরনের ভূমিকা রাখে, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে গোটা ভারত তথা দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক মহল।