সুন্দরবনের পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জে বনদস্যুদের সঙ্গে বনরক্ষীদের এক ভয়াবহ গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। নিয়মিত টহলের সময় সিঙারটেক খালের মুখে দস্যুরা বনরক্ষীদের লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি চালালে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই বন্দুকযুদ্ধের এক পর্যায়ে বনদস্যুরা পিছু হটতে বাধ্য হয় এবং গহীন বনে পালিয়ে যায়। এই অভিযানের পর দস্যুদের ফেলে যাওয়া একটি দ্রুতগামী ট্রলার থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় চারজন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করেছে বন বিভাগ।
উদ্ধারকৃত জেলেরা বাগেরহাটের শরণখোলা এবং খুলনার বটিয়াঘাটা ও দাকোপ উপজেলার বাসিন্দা। জেলেরা জানিয়েছেন, তারা ‘শরীফ বাহিনী’ নামক একটি দস্যু দলের হাতে অপহৃত হয়েছিলেন। মুক্তিপণের দাবিতে তাদের জিম্মি করে বনের গভীরে রাখা হয়েছিল। বনরক্ষীদের সময়োচিত হস্তক্ষেপে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে ফেরেন তারা। দস্যুদের ফেলে যাওয়া ট্রলারটি থেকে একটি দেশি বন্দুক ও বেশ কিছু তাজা গুলি জব্দ করা হয়েছে, যা দস্যুদের বড় ধরনের অপতৎপরতার প্রমাণ দেয়।
শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক শরিফুল ইসলাম জানান, দস্যুরা দুই দফায় বনরক্ষীদের ওপর আক্রমণ চালিয়েছিল। প্রথমে সিঙারটেক এলাকায় এবং পরবর্তীতে উদ্ধার করা জেলেদের নিয়ে ফেরার পথে আবারও গুলি চালায় তারা। তবে বনরক্ষীদের পাল্টা গুলির মুখে দস্যুরা আর টিকতে পারেনি। দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক রাউন্ড গুলি বিনিময় হলেও বন বিভাগের কোনো সদস্য হতাহত হননি। বর্তমানে সুন্দরবনের ওই নির্দিষ্ট এলাকায় দস্যু দমনে বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী নিশ্চিত করেছেন যে, উদ্ধার করা চার জেলে বর্তমানে শেলারচর টহল ফাঁড়ির হেফাজতে রয়েছেন। তাদের প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘ কয়েক বছর পর সুন্দরবনে পুনরায় দস্যুদের এমন সক্রিয়তা বনজীবী ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখতে নিয়মিত টহল ও ‘স্মার্ট প্যাট্রোলিং’ আরও বৃদ্ধির পরিকল্পনা করছে কর্তৃপক্ষ।



