― Advertisement ―

‘ইউক্রেন যুদ্ধ এখন শেষের দিকে’: মস্কোর বিজয় দিবসে পুতিনের ঘোষণা

ইউক্রেন সংকটের চার বছর পেরিয়ে এসে এক চাঞ্চল্যকর ইঙ্গিত দিলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। মস্কোর রেড স্কয়ারে সোভিয়েত ইউনিয়নের ৮১তম বিজয় দিবস উদযাপনকালে তিনি দাবি করেছেন, দীর্ঘস্থায়ী এই যুদ্ধ এখন সমাপ্তির পথে। সামরিক কুচকাওয়াজ শেষে ক্রেমলিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, রণক্ষেত্রে রাশিয়ার বিজয় এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। যদিও যুদ্ধ কীভাবে বা কোন প্রক্রিয়ায় শেষ হবে, সে সম্পর্কে তিনি নির্দিষ্ট কোনো রূপরেখা দেননি, তবে তাঁর আত্মবিশ্বাসী সুর বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ঐতিহাসিক ভিক্টরি ডে’র ভাষণে পুতিন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের নাৎসি জার্মানি পরাজয়ের বীরত্বগাথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, ইতিহাস সাক্ষী দেয় রাশিয়ার জয় অনিবার্য। যুদ্ধের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি আবারও পশ্চিমা বিশ্বের “গ্লোবালিস্ট” নেতাদের কঠোর সমালোচনা করেন। তাঁর মতে, ন্যাটোর পূর্বমুখী সম্প্রসারণ রোধে রাশিয়ার নেওয়া পদক্ষেপগুলো ছিল জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে অপরিহার্য। বার্লিন প্রাচীর পতনের পরবর্তী প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে ইউক্রেনকে পশ্চিমা প্রভাব বলয়ে নেওয়ার চেষ্টাই এই সংঘাতের মূল কারণ বলে তিনি দাবি করেন।

বর্তমানে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যস্থতায় একটি ভঙ্গুর শান্তি আলোচনার প্রক্রিয়া চললেও তা সাময়িকভাবে স্থগিত রয়েছে। তবে বিজয় দিবস উপলক্ষে ঘোষিত তিন দিনের যুদ্ধবিরতি কিছুটা স্বস্তি এনেছে। পুতিন ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইউরোপের নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তিনি আলোচনায় বসতে আগ্রহী। এই আলোচনার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তিনি জার্মানির সাবেক চ্যান্সেলর গেরহার্ড শ্রোয়েডারের মতো অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্বদের ওপর আস্থা রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন। কিউবার মিসাইল সংকটের পর এটিই রাশিয়ার জন্য সবচেয়ে বড় ভূ-রাজনৈতিক পরীক্ষা বলে পুতিন মনে করেন।

চার বছরের এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ কেবল ইউক্রেন বা রাশিয়ার মানচিত্র নয়, বরং বদলে দিয়েছে পুরো বৈশ্বিক সমীকরণকে। পারমাণবিক যুদ্ধের যে আশঙ্কা এক সময় বিশ্বকে আতঙ্কিত করেছিল, তা থেকে সরে এসে এখন কূটনীতির টেবিলে সমাধানের পথ খুঁজছে ক্রেমলিন। ১১ মে যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার পর যুদ্ধক্ষেত্র কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখন দেখার বিষয়। তবে পুতিনের “সমাপ্তির পথে” বার্তাটি কি কেবল মনস্তাত্ত্বিক জয় নাকি বাস্তবসম্মত কোনো সন্ধির পূর্বাভাস, তা নিয়ে সন্দিহান আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।