― Advertisement ―

দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে মির্জাপুরের প্রবাসী যুবক নিহত

দক্ষিণ আফ্রিকার নিউক্যাসল শহরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে সুমন (৩৫) নামের এক প্রবাসী বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। শনিবার (৯ মে ২০২৬) স্থানীয় সময় বিকেলে নিজের গাড়িতে থাকাকালীন একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী তাঁকে লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই সুমনের মৃত্যু হয়। নিহত সুমন টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের অভিরামপুর গ্রামের মইজ উদ্দিনের সন্তান। দীর্ঘ দিন ধরে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকায় ব্যবসা করে আসছিলেন।

অত্যন্ত পরিশ্রমী ও শান্ত স্বভাবের সুমন মাত্র তিন বছর আগে দেশে ফিরে বিয়ে করেছিলেন। তাঁর ঘরে দুই বছরের একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। সুমনের অকাল মৃত্যুর খবর গ্রামে পৌঁছালে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম শুরু হয়। তাঁর শিশু সন্তান ও স্ত্রীর আহাজারিতে অভিরামপুর গ্রামের আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। কেন বা কী কারণে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের ওপর ক্রমাগত হামলার ঘটনায় এই মৃত্যু নতুন করে আতঙ্ক তৈরি করেছে।

নিহতের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ইতোমধ্যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি দল সুমনের বাড়িতে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সাথে কথা বলেছে। সুমনের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক সব ধরনের সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ। বর্তমানে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।

দক্ষিণ আফ্রিকায় সাম্প্রতিক সময়ে প্রবাসী ব্যবসায়ীদের ওপর আক্রমণের হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক শত্রুতা বা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে এই ধরণের প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়। সুমনের এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড কেবল একটি পরিবারের স্বপ্ন ভেঙে দেয়নি, বরং প্রবাসে থাকা হাজারো বাংলাদেশির নিরাপত্তা নিয়ে আবারও বড় প্রশ্ন তুলে ধরেছে। নিহতের স্বজনরা এখন সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছেন যেন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার এবং মরদেহ দ্রুত দেশে আনার ব্যবস্থা করা হয়।