প্রতি বছর ১০ মে তারিখটিকে ‘মারকা-ই-হক দিবস’ হিসেবে পালনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। গত বছর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যেকার চার দিনব্যাপী তীব্র সামরিক উত্তজনা ও সংঘাতের স্মৃতি স্মরণে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসলামাবাদ। রোববার (১০ মে, ২০২৬) এই সংঘাতের প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে প্রধানমন্ত্রী এই নতুন জাতীয় দিবসের ঘোষণা দেন। উল্লেখ্য, গত বছরের সেই সংক্ষিপ্ত যুদ্ধাবস্থাকে পাকিস্তান সরকার শুরু থেকেই ‘মারকা-ই-হক’ নামে অভিহিত করে আসছে।
স্মারক অনুষ্ঠানে শাহবাজ শরিফ তাঁর দেশের সশস্ত্র বাহিনীর বীরত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি দাবি করেন, গত বছরের সেই সংকটে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী শত্রুপক্ষকে একটি ‘ঐতিহাসিক এবং দাঁতভাঙা জবাব’ দিতে সক্ষম হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর মতে, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং যেকোনো বহিঃশত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী যে দৃঢ়তা দেখিয়েছে, তা জাতীয় ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। ১০ মে তারিখটিকে রাষ্ট্রীয় ক্যালেন্ডারে একটি স্থায়ী মর্যাদা দেওয়ার মাধ্যমে সরকার সেই সামরিক সফলতাকে জাতীয় অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়।
বক্তব্যের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং প্রতিরক্ষার সক্ষমতার প্রসঙ্গ। শাহবাজ শরিফ জোর দিয়ে বলেন, পাকিস্তান কোনো আগ্রাসনকে প্রশ্রয় দেয় না, তবে নিজের সীমান্ত রক্ষায় এক চুলও ছাড় দেবে না। ‘মারকা-ই-হক’ বা ‘সত্যের লড়াই’ নামের এই দিবসটি মূলত পাকিস্তানের আত্মরক্ষা এবং প্রতিবেশী শক্তির বিরুদ্ধে তাদের সক্ষমতার প্রতীক হিসেবে পালিত হবে। ইসলামাবাদ মনে করছে, এই দিবসের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর সাফল্যগাঁথা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
পাকিস্তান সরকার ইঙ্গিত দিয়েছে যে, ১০ মে এখন থেকে কেবল একটি দিবস নয়, বরং একটি জাতীয় চেতনার নাম হিসেবে পরিচিতি পাবে। দিনটিতে দেশব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি ও সেমিনারের মাধ্যমে গত বছরের সংঘাতের ঘটনাবলি এবং পাকিস্তানের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হবে। শাহবাজ শরিফের এই ঘোষণা দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে, কারণ এটি দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী স্নায়ুযুদ্ধের নতুন একটি অনুষঙ্গ হিসেবে আবির্ভূত হলো।



