― Advertisement ―

সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের পরাজয়: ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের যুদ্ধকালীন ক্ষমতা বহাল

মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে আবারও ধাক্কা খেল ডেমোক্র্যাটদের যুদ্ধবিরোধী প্রচেষ্টা। ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একক ক্ষমতা সীমিত করার লক্ষ্যে আনা একটি বিশেষ প্রস্তাব বুধবার (১৫ এপ্রিল ২০২৬) রিপাবলিকান সিনেটরদের বিরোধিতায় নাকচ হয়ে গেছে। ৫২-৪৭ ভোটের ব্যবধানে প্রস্তাবটি অগ্রাহ্য হওয়ায় ট্রাম্পের সামরিক কৌশলের পক্ষে রিপাবলিকানদের একাট্টা অবস্থান আরও একবার স্পষ্ট হলো। এর ফলে কংগ্রেসের আগাম অনুমোদন ছাড়াই ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের সামনে আর কোনো আইনি বাধা রইল না।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই যৌথ অভিযান এখন ষষ্ঠ সপ্তাহে পদার্পণ করেছে। ডেমোক্র্যাটরা শুরু থেকেই দাবি করে আসছেন যে, মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী যেকোনো বড় ধরনের সামরিক অভিযানের জন্য কংগ্রেসের সবুজ সংকেত নেওয়া বাধ্যতামূলক। তবে রিপাবলিকানরা মনে করছেন, এই মুহূর্তে প্রেসিডেন্টের হাত সংকুচিত করা মানে জাতীয় নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলা। ভোটাভুটিতে দেখা যায়, কেন্টাকির একজন সিনেটর ছাড়া বাকি সব রিপাবলিকান সদস্য ট্রাম্পের নীতির পক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন।

ইরান যুদ্ধ শুরুর পর এটি ছিল ডেমোক্র্যাটদের চতুর্থ দফার প্রচেষ্টা। কিন্তু প্রতিবারই রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত বা সমর্থিত ব্লকের কাছে তাদের হার মানতে হয়েছে। এই ভোটাভুটি প্রমাণ করে যে, দীর্ঘ দেড় মাস ধরে চলা যুদ্ধ নিয়ে রিপাবলিকান শিবিরের মধ্যে তেমন কোনো বড় ধরনের ফাটল ধরেনি। বরং তাঁরা ট্রাম্পের বিমান হামলা ও রণকৌশলকে ইরানের হুমকি মোকাবিলায় সঠিক পদক্ষেপ হিসেবেই বিবেচনা করছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ভোটের ফলাফল ট্রাম্পকে আন্তর্জাতিক মহলে আরও শক্তিশালী বার্তা দেওয়ার সুযোগ করে দেবে। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটরা আশঙ্কা করছেন যে, এভাবে একক সিদ্ধান্তে যুদ্ধ চলতে থাকলে তা মধ্যপ্রাচ্যে এক দীর্ঘমেয়াদী সংকটের সৃষ্টি করতে পারে। আপাতত আইনি লড়াইয়ে ট্রাম্প বিজয়ী হলেও, খোদ আমেরিকার ভেতরেই যুদ্ধের নৈতিকতা ও সাংবিধানিক ক্ষমতা নিয়ে বিতর্ক থামার কোনো লক্ষণ নেই।