বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া বিশেষ ছাড়ের প্রস্তাবকে স্রেফ উপহাস করে উড়িয়ে দিয়েছে ইরান। সাগরে ভাসমান ট্যাঙ্কারে আটকে থাকা ইরানি অপরিশোধিত তেল বিক্রির ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের যে ঘোষণা ওয়াশিংটন দিয়েছিল, তাকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ অত্যন্ত কড়া ভাষায় জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই তথাকথিত দয়ার প্রয়োজন তাদের নেই, কারণ তাঁদের মজুত থাকা সব তেল ইতিমধ্যেই বিক্রি হয়ে গেছে।
দীর্ঘদিন ধরে ইরানের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি তেল খাতের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষ করে ২০১৮ সালে পরমাণু চুক্তি থেকে সরে আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন ইরানি তেল বিক্রির পথ পুরোপুরি রুদ্ধ করার চেষ্টা করে। তবে বর্তমানে বিশ্ববাজারে তেলের ক্রমবর্ধমান দাম নিয়ন্ত্রণ ও সরবরাহ স্বাভাবিক করতে ট্রাম্প প্রশাসন একটি অস্থায়ী লাইসেন্স দেওয়ার ঘোষণা দেয়। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টের দেওয়া তথ্যমতে, সাগরে আটকে থাকা প্রায় ১৪ কোটি ব্যারেল ইরানি তেল বাজারে ছেড়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে চেয়েছিল ওয়াশিংটন।
তবে মার্কিন এই কূটনীতিকে পাত্তা না দিয়ে স্পিকার গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ উপহাস করে লিখেছেন, “সাগরে আটকে থাকা তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলছেন? দুঃখিত—আমাদের সব তেল বিক্রি হয়ে গেছে।” তাঁর এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, তেহরান বিকল্প পথে তাদের জ্বালানি বাণিজ্য চালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে এবং ওয়াশিংটনের কোনো সাময়িক ছাড়কে তারা এখন গুরুত্ব দিচ্ছে না। ইরানের এই অনড় অবস্থানের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমানোর মার্কিন পরিকল্পনা এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ল।



