― Advertisement ―

সংকটে ইরানের পাশে বাংলাদেশ: ১ কোটি টাকার ওষুধ ও সরঞ্জাম হস্তান্তর

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভয়াবহ সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ ইরানের সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার ঢাকায় অবস্থিত ইরানি দূতাবাসে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জরুরি ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম হস্তান্তর করা হয়। বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মহাসচিব ড. কবির এম আশরাফ আলম ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদীর কাছে এই মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেন। এই উদ্যোগটি কেবল একটি কূটনৈতিক প্রক্রিয়া নয়, বরং সংকটকালে দুই দেশের ঐতিহাসিক ও আত্মিক সম্পর্কের এক উজ্জ্বল প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ৬ এপ্রিল ইরানের আহত নাগরিকদের সুচিকিৎসার লক্ষ্যে ১ কোটি টাকা অনুদান প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রীর এই বিশেষ আর্থিক সহায়তায় কেনা জীবনরক্ষাকারী ওষুধ ও আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামগুলো রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মাধ্যমে ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে সরকারের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি হিসেবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিপাক্ষিক সচিব ড. মো. নজরুল ইসলাম এবং পশ্চিম এশিয়া উইংয়ের মহাপরিচালক মো. হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন। সহায়তা কার্যক্রমটি পরিচালনার দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, যারা শুরু থেকেই এই মানবিক উদ্যোগে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে।

অনুষ্ঠানে সংঘাতের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতিতে গভীর উদ্বেগ ও সমবেদনা প্রকাশ করে বাংলাদেশ সরকার। পররাষ্ট্র সচিব নজরুল ইসলাম জোর দিয়ে বলেন যে, বাংলাদেশ ঐতিহাসিকভাবেই বিশ্বশান্তির পক্ষে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, বর্তমানের এই সংকটময় পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের দিকে না গিয়ে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধান হবে। বাংলাদেশের এই অবস্থান মূলত যুদ্ধের বিপরীতে মানবিকতাকে প্রাধান্য দেওয়ার একটি বিশ্বজনীন বার্তা হিসেবে কাজ করছে।

ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদী বাংলাদেশের এই সময়োপযোগী সহায়তার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, কঠিন সময়ে বাংলাদেশের জনগণের এই সহানুভূতি ইরান কখনো ভুলবে না। রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মহাসচিবও বিশ্বজুড়ে আর্তমানবতার সেবায় তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে নিজেদের দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, এ ধরনের সহায়তা কার্যক্রম আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। এই বন্ধুত্বপূর্ণ সহায়তা মধ্যপ্রাচ্যের সংকটকালে ইরান ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুসংহত করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।