― Advertisement ―

হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের গুলি, বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালীতে একটি বাণিজ্যিক কনটেইনার জাহাজে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) গুলিবর্ষণের ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধাতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার সকালে ঘটে যাওয়া এই অতর্কিত হামলায় জাহাজটির ব্রিজ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অলৌকিকভাবে কোনো নাবিক হতাহত হননি। ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, ইরানি গানবোটগুলো কোনো ধরনের উসকানি বা পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই জাহাজটিকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে শুরু করে। এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক নৌপথে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এমন এক সময়ে এই হামলার ঘটনা ঘটল যখন পাকিস্তান সীমান্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি বহুল প্রতীক্ষিত শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে সেই আলোচনা শেষ পর্যন্ত আলো মুখ দেখেনি। একই দিনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দেন, যাতে তেহরান আলোচনার টেবিলে একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব নিয়ে আসতে পারে। কিন্তু ওয়াশিংটনের এই নমনীয় মনোভাবের বিপরীতে হরমুজ প্রণালীতে ইরানের এই সামরিক পদক্ষেপ কূটনৈতিক সমাধানের পথকে আরও কণ্টকাকীর্ণ করে তুলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী বিশ্বজ্বালানি সরবরাহের প্রধান ধমনী হিসেবে পরিচিত। এখানে যেকোনো ধরনের অস্থিরতা বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়িয়ে দিতে পারে। ইরান এখন পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি বাড়ানো বা এই হামলার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি, যা পরিস্থিতিকে আরও রহস্যময় ও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এই অঞ্চলে একের পর এক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা এটাই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তেহরান আন্তর্জাতিক চাপ মোকাবিলায় নৌপথকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে।

এই সামরিক উত্তজনা কেবল মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্ব বাণিজ্যেও। বড় বড় শিপিং কোম্পানিগুলো এখন হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে বিকল্প পথে চলার কথা ভাবছে, যা বৈশ্বিক পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় খরচ ও সময় উভয়ই বাড়িয়ে দেবে। একদিকে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব আর অন্যদিকে সরাসরি গুলি—ইরানের এই দ্বিমুখী অবস্থান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ভাবিয়ে তুলছে। ফলে অদূর ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে কোনো স্থায়ী শান্তি চুক্তি হবে কি না, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।