― Advertisement ―

তেহরানকে ট্রাম্পের চরমপত্র: ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ না খুললে অন্ধকারে ডুববে ইরান

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এক ভয়ংকর মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে। পারস্য উপসাগরের জীবনরেখা হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ করে রাখায় ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার (২২ মার্চ) তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এই নৌপথটি সব ধরনের জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত না করলে ইরানের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে বিধ্বংসী হামলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্পের এই আল্টিমেটাম মূলত তেহরানের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার একটি সরাসরি হুমকি।

যুদ্ধের ভয়াবহতা আরও বেড়েছে ইরানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির প্রদর্শনীতে। ইসরায়েলি সামরিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, ইরান প্রথমবারের মতো ৪ হাজার কিলোমিটার পাল্লার দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে, যা ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়ায় অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি পর্যন্ত আঘাত হেনেছে। ইসরায়েলের সামরিক প্রধান ইইয়াল জামির সতর্ক করে বলেছেন, তেহরানের এই সক্ষমতা এখন ইউরোপের শহরগুলোর জন্যও বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেছে।

এদিকে শনিবার রাতে ইরানের ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের ডিমোনা ও আরাদ শহরে আঘাত হানলে বহু মানুষ হতাহত হন। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানে মৃতের সংখ্যা ইতিমধ্যে দুই হাজার ছাড়িয়েছে, আর ইসরায়েলে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৫ জন। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, তারা কোনোভাবেই পিছু হটবেন না এবং শত্রুর ওপর পাল্টা আঘাত অব্যাহত রাখবেন।

সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া বার্তায় ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি—সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রটি দিয়েই শুরু হবে মার্কিন বিমান হামলা। যদি তেহরান এই সময়ের মধ্যে প্রণালীটি খুলে না দেয়, তবে পুরো ইরান অন্ধকারে ডুবে যাওয়ার শঙ্কায় রয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই মুখোমুখি অবস্থান তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের শঙ্কাকে আরও ঘনীভূত করছে।