― Advertisement ―

ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলী লারিজানি নিহত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের দাবানলে এবার প্রাণ হারালেন ইরানের সবচেয়ে প্রভাবশালী নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও নীতি-নির্ধারক আলী লারিজানি। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী নিশ্চিত করেছে যে, গত রাতে এক বিমান হামলায় লারিজানি এবং ইরানের আধাসামরিক বাহিনী ‘বাসিজ’-এর প্রধান গোলামরেজা সোলাইমানি নিহত হয়েছেন। ইরানের সরকারি কর্তৃপক্ষও এই দুই শীর্ষ নেতার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে, যা তেহরানের সামরিক ও প্রশাসনিক কাঠামোতে বড় ধরনের আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেই নিহতের পর লারিজানিই ছিলেন দেশটির সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এই অভিযানকে ‘সন্ত্রাস নির্মূলের অংশ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, লারিজানির মৃত্যু ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে পঙ্গু করে দেবে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই হত্যাকাণ্ডের ফলে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার সংঘাত আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

লারিজানি এবং সোলাইমানির মৃত্যু এমন এক সময়ে ঘটল যখন পুরো মধ্যপ্রাচ্য একটি অনিয়ন্ত্রিত যুদ্ধের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ইরান ইতোমধ্যেই ইসরায়েল এবং মার্কিন ঘাঁটি থাকা আরব দেশগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে পাল্টা জবাব দিয়েছে। এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা তুঙ্গে এবং হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে।

তেহরানের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত মিত্র লারিজানির অন্তর্ধান দেশটির অভ্যন্তরে ক্ষমতার ভারসাম্যকেও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। লারিজানি কেবল একজন নিরাপত্তা প্রধান ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন দেশটির ‘এক্সিস অফ রেজিস্ট্যান্স’-এর অন্যতম প্রধান রূপকার। তাঁর মৃত্যুতে লোহিত সাগর এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের প্রভাব খর্ব হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখন বিশ্ব তাকিয়ে আছে তেহরান এই বিশাল ক্ষতির পর কী ধরনের রণকৌশল গ্রহণ করে তার ওপর।