― Advertisement ―

‘নিষ্প্রভ’ কেইনের কাঁধে সতীর্থদের আস্থার হাত

বুন্ডেসলিগায় গোলের পর গোল করে ইউরোতে খেলতে এসে নিজেকে যেন খুঁজে ফিরছেন হ্যারি কেইন। টুর্নামেন্টে এখনও দেখা যায়নি তার সেরা চেহারা। তবে এনিয়ে একদমই...

রাউন্ড অব ৩২-এ সামনে ফরাসি প্রাচীর; হিয়েনকে হারিয়ে কঠিন পরীক্ষায় গতিশীল সুইডেন

বিশ্ব ফুটবলের মঞ্চে সুইডেন সবসময়ই একটি ঐতিহ্যবাহী নাম। ফিফা বিশ্বকাপের মোট ২৩টি ঐতিহাসিক আসরের মধ্যে ১৩টিতেই অংশ নিয়েছে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান অঞ্চলের এই পরাশক্তি। ১৯৫৮ সালের ঘরের মাঠে রানার্স-আপ হওয়া কিংবা ১৯৯৪ সালের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান অর্জন—ইউরোপীয় ফুটবলের অন্যতম পাওয়ারহাউস হিসেবে ব্ল্যাকুলেনদের (Blågult) ইতিহাস বেশ সমৃদ্ধ। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাদের পারফরম্যান্সের গ্রাফ কিছুটা নিচের দিকে নেমে গিয়েছিল, যার চূড়ান্ত ধাক্কা আসে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করতে ব্যর্থ হওয়ার মাধ্যমে। সেই চরম ব্যর্থতা ও হতাশা থেকে শিক্ষা নিয়ে সুইডিশ ফুটবল ফেডারেশন (SvFF) একটি দীর্ঘমেয়াদি ও বৈজ্ঞানিক মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করে। তৃণমূল পর্যায় থেকে খেলোয়াড় উন্নয়ন, আধুনিক হাই-প্রেসিং ফুটবল এবং আক্রমণাত্মক দর্শনের ওপর ভিত্তি করে তারা একটি নতুন প্রজন্মের দল গড়ে তোলে। ফলস্বরূপ, চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপে সুইডেন কেবল অংশ নিতে আসেনি, বরং আধুনিক ট্যাকটিক্যাল বিপ্লবের মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের পুনর্জাগরণের বার্তা স্পষ্ট করে দিয়েছে।

চলতি বিশ্বকাপে সুইডেন খেলছে সম্পূর্ণ নতুন পরিচয়ে, যেখানে অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তারুণ্যের গতিশীলতা। কোচ গ্রাহাম পটারের (Graham Potter) অধীনে দলটি তাদের ঐতিহ্যগত রক্ষণাত্মক খোলস থেকে বেরিয়ে ইউরোপের অন্যতম ভয়ংকর ও আধুনিক আক্রমণাত্মক দলে পরিণত হয়েছে। গ্রুপ পর্বের ‘এফ’ গ্রুপে সুইডেনের অভিযান ছিল রূপকথার মতো নাটকীয়। গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ ছিল ইউরোপের অন্যতম ফেভারিট নেদারল্যান্ডস, গতিশীল ফুটবল খেলা এশিয়ান জায়ান্ট জাপান এবং শারীরিক ফুটবলে পারদর্শী আফ্রিকার তিউনিসিয়া। প্রথম ম্যাচেই তিউনিসিয়াকে ৫-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে গুঁড়িয়ে দিয়ে সুইডিশরা টুর্নামেন্টে নিজেদের শক্তির জানান দেয়। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে ডাচদের কাছে একই ব্যবধানে (৫-১) বিধ্বস্ত হওয়া দলটিকে মানসিক ও কৌশলগতভাবে বড় চাপের মুখে ফেলে দেয়। নকআউটে যাওয়ার সমীকরণে শেষ ম্যাচে জাপানের বিরুদ্ধে ১-১ গোলের লড়াকু ড্র করে তারা। এই এক পয়েন্টের ওপর ভর করেই সেরা তৃতীয় স্থানধারী দলগুলোর অন্যতম হিসেবে সুইডেন নাটকীয়ভাবে শেষ বত্রিশের (Round of 32) টিকিট নিশ্চিত করে। এই প্রত্যাবর্তন প্রমাণ করে, দলটি আগের চেয়ে মানসিকভাবে অনেক বেশি দৃঢ়।

বর্তমান সুইডিশ স্কোয়াডের সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা হলো তাদের বিশ্বমানের ফরোয়ার্ড লাইন, যা ইউরোপের যেকোনো ক্লাবের জন্য ঈর্ষণীয়। দলের আক্রমণভাগের মূল নিউক্লিয়াস হিসেবে খেলছেন নিউক্যাসেল ইউনাইটেডের আলেকজান্ডার ইসাক, স্পোর্টিং সিপির ভিক্টোর গিয়োকেরেস এবং উইঙ্গার অ্যান্থনি এলাঙ্গা। বিশেষ করে ইসাক ও গিয়োকেরেসের জুটিকে এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক ফুটবলের অন্যতম কার্যকর ও ধ্বংসাত্মক স্ট্রাইকিং পার্টনারশিপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

কৌশলগত এই অভূতপূর্ব বিপ্লবের মধ্যেও নকআউট পর্বের ঠিক আগমুহূর্তে সুইডিশ শিবিরে আঘাত হেনেছে একটি বড় বিপর্যয়।

রাউন্ড অব ৩২-এর প্রথম ধাপেই সুইডেনকে মুখোমুখি হতে হচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম প্রধান পরাশক্তি এবং টুর্নামেন্টের অন্যতম হট-ফেভারিট ফ্রান্সের (France national football team)। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ফরাসিদের বিপক্ষে এই ম্যাচটি হতে যাচ্ছে কোচ গ্রাহাম পটারের কৌশলের সবচেয়ে বড় এসিড টেস্ট। ২০২৬ বিশ্বকাপে সুইডেনের এই পথচলা কেবল কয়েকটি ম্যাচের পরিসংখ্যান নয়, এটি একটি ফুটবল সংস্কৃতির প্রাতিষ্ঠানিক পুনর্জন্মের মহাকাব্য। ফুটবলপ্রেমীরা আশা করছেন, ফরাসি বাধা পেরিয়ে সুইডেনের এই নতুন স্বপ্নের অভিযাত্রা আরও বহুদূর এগিয়ে যাবে।