বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমুদ্র নিরাপত্তা ও কৌশলগত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্য নিয়ে তিন দিনের ঢাকা সফর শেষ করেছেন মার্কিন পেসিফিক ফ্লিটের কমান্ডার এডমিরাল স্টিভ কোহলার। গত ৪ থেকে ৬ আগস্ট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই সফরের মাধ্যমে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা সুরক্ষায় দুদেশের দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্ব আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।
মার্কিন দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত মুখপাত্র মারিয়া বার্ড প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, উচ্চপর্যায়ের এই সফরে এডমিরাল কোহলার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামছুল ইসলাম এবং নৌবাহিনী প্রধান ভাইস এডমিরাল খন্দকার মিসবাহ উল আজিমের সাথে পৃথক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে আঞ্চলিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা, জলসীমার সুরক্ষা এবং যৌথ সামরিক মহড়া বৃদ্ধি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকগুলোতে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অবাধ তথ্য আদান-প্রদান এবং সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর উভয় পক্ষ জোর দেয়। প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ও নৌবাহিনী প্রধানের সাথে আলোচনায় বঙ্গোপসাগরের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, চোরাচালান প্রতিরোধ ও যৌথ জলসীমা নজরদারির কৌশলগত বিষয়গুলো প্রাধান্য পায়।
কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি এডমিরাল কোহলার বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও সামরিক স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি ঢাকা সেনানিবাসের শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
সফরের শেষ অংশে মার্কিন পেসিফিক ফ্লিট প্রধান পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক লালবাগ কেল্লা পরিদর্শন করেন। বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।
দূতাবাসের কর্মকর্তা মারিয়া বার্ড জানান, এডমিরাল কোহলারের এই সফর দুই দেশের প্রতিরক্ষা খাতের বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও গভীর ও সহযোগিতাপূর্ণ করবে। বঙ্গোপসাগরে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এ ধরনের সামরিক সফর কার্যকর প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।



