বহুল আলোচিত আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কোনো নিয়ম রক্ষার বা আনুষ্ঠানিকতার নির্বাচন বলতে নারাজ সরকার। স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মোঃ নূরুল ইসলাম জানিয়েছেন, সংঘাতের পরিবর্তে গণতান্ত্রিক প্রতিযোগিতাই রাজনীতির মূল সৌন্দর্য। আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনে বিএনপি ও শরীক রাজনৈতিক জোটের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে এই প্রস্তাব পেশ করা হয়। এ সময় সরকারের মন্ত্রী, জাতীয় সংসদের হুইপবৃন্দ ও বিপুলসংখ্যক সংসদ সদস্য নির্বাচন কমিশন প্রাঙ্গণে উপস্থিত ছিলেন। সাংবিধানিক নিয়ম মেনে জাতীয় সংসদের ৩৪৯ জন নির্বাচিত সদস্য এই নির্বাচনে সরাসরি ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবেন।
মনোনয়ন দাখিলের নানা প্রশাসনিক প্রক্রিয়া তুলে ধরেন চিফ হুইপ। তিনি জানান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম প্রস্তাব করেছেন দলের স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান। ওই প্রস্তাবে সমর্থক হিসেবে স্বাক্ষর করেন স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। বিরোধী দলীয় জোটের পক্ষ থেকেও আলাদা প্রার্থীর নাম জমা দেওয়ায় এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে সাধুবাদ জানান চিফ হুইপ।
গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হয়ে চিফ হুইপ জোর দিয়ে বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের গণসংগ্রামের পর একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এই সংসদ গঠিত হয়েছে। নির্বাচনটি কোনো প্রহসন কিংবা নিছক নিয়ম রক্ষার খেলা নয়। সংবিধান ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অক্ষরে অক্ষরে মেনেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রতিটি ধাপ সম্পন্ন করা হচ্ছে। সংসদ সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার মর্যাদা রক্ষায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
জুলাই সনদের বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম। তাঁর মতে, সরকার জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, দাড়ি, কমা এমনকি সেমিকোলন বাস্তবায়নে শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এর জন্য পুরো সংবিধান নতুন করে ঢেলে লেখার কোনো প্রয়োজন নেই। প্রয়োজনীয় ও সময়োপযোগী সংশোধনীর পথ ধরেই দেশ এগিয়ে যাবে।
সাংবিধানিক সংস্কার বাস্তবায়নে জাতীয় ঐকমত্যের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। চিফ হুইপ বলেন, “সংবিধানের একটি কমা পরিবর্তনও তো বড় ধরনের সংস্কার। আমরা চাই আগামী প্রজন্মের সামনে একটি দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই শাসনকাঠামো দাঁড় করাতে। কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা দলের স্বার্থ রক্ষায় এই সংস্কার নয়; সর্বজনীন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠাই মূল লক্ষ্য।”



