― Advertisement ―

মধ্যপ্রাচ্যে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান পাঠাচ্ছে মার্কিন সামরিক বাহিনী!

মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে এক নতুন এবং ভয়াবহ সামরিক সংঘাতের ঘনঘটা দেখা দিয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে অঞ্চলটিতে বড় ধরনের যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার মধ্যে ইসরায়েলে বিপুলসংখ্যক অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ও মাঝ আকাশে জ্বালানি ভরার রিফুয়েলিং বিমান মোতায়েন করতে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে অঞ্চলজুড়ে অতিরিক্ত মার্কিন সেনা মোতায়েন, কঠোর ভ্রমণ সতর্কতা জারি এবং ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য নতুন সামরিক অভিযানের জোর প্রস্তুতি চলছে। ওয়াশিংটনের এই নজিরবিহীন সামরিক কৌশলগত পরিবর্তন ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, হোয়াইট হাউজ মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের মাত্রা আরও বাড়ানোর পথেই হাঁটছে।

টানা আট রাত ধরে চলা তীব্র হামলা-পাল্টা হামলার পর বর্তমানে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে গোলাগুলির এই বিনিময় এক ধরনের দৈনন্দিন রুটিনে পরিণত হয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানে প্রতিটি নতুন দফার হামলা শুরুর আগে ও পরে পৃথক বিবৃতি প্রকাশ করছে। জবাবে ইরানও প্রতিবেশী দেশগুলোর দিকে স্মরণকালের অন্যতম বৃহৎ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। শনিবার রাত থেকে আজ রোববার সকাল পর্যন্তও একই ধারা অব্যাহত ছিল এবং আজ সকালে কুয়েতে সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে, যা পুরো অঞ্চলে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

সাম্প্রতিক এই সংঘাতের রেশ ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক অত্যন্ত উদ্বেগজনক ঘোষণা দিয়েছে। জর্ডানের একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন হামলায় ২ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং আরও ১ জন সেনা এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। সংঘাত পুনরায় শুরু হওয়ার পর এটাই প্রথম আনুষ্ঠানিক মার্কিন সামরিক প্রাণহানির ঘটনা। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, জর্ডানে আরও কয়েক ডজন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন, যার পাল্টা জবাব হিসেবে টানা অষ্টম রাতেও ইরানে হামলা চালিয়েছে ওয়াশিংটন।

এদিকে প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, নিহত সেনারা জর্ডানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে অবস্থান করছিলেন। মার্কিন সামরিক বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, লক্ষ্য নির্ধারণের (টার্গেট অ্যাকুইজিশন) ক্ষেত্রে ইরান সম্ভবত চীন বা রাশিয়ার কাছ থেকে উচ্চপ্রযুক্তিগত স্যাটেলাইট ও গোয়েন্দা সহায়তা পাচ্ছে। ফলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ধারাবাহিক হামলা এবং সেনা নিহত হওয়ার ঘটনায় হোয়াইট হাউজের কঠোরপন্থিরা এখন ইরানের বিরুদ্ধে ‘কাজ শেষ করার’ চূড়ান্ত সময় এসে গেছে বলে দাবি করছেন।

ভবিষ্যৎ হামলাকে আরও নিখুঁত করতে পেন্টাগন এখন সামরিক পরিকল্পনা ঢেলে সাজাচ্ছে। ইরানের শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফাঁকি দিতে মার্কিন সামরিক বাহিনী ড্রোন ও অত্যাধুনিক মানববিহীন প্রযুক্তির ব্যবহার ব্যাপক হারে বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। এই বৃহৎ প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইসরায়েলে ডজন খানেক রিফুয়েলিং বিমান এবং যুদ্ধবিমানের বিশাল বহর পাঠাতে শুরু করেছে। মার্কিন সামরিক ক্রুদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এই ট্যাংকার বিমানগুলো অত্যন্ত সুরক্ষিত সামরিক ঘাঁটিতে মোতায়েন করছে।

ইতিমধ্যে জার্মানির স্পাংডাহলেম বিমানঘাঁটি থেকে মার্কিন এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের স্কোয়াড্রন ইসরায়েলে এসে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্য থেকে মার্কিন বিমানবাহিনীর সবচেয়ে আধুনিক ও পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানও মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধক্ষেত্রে স্থানান্তর করা হয়েছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অত্যাধুনিক স্টেলথ ফাইটার জেটগুলো প্রধানত ইরানের অভ্যন্তরে থাকা ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার রাডার নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করার কাজে ব্যবহার করা হবে।

সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন যেকোনো মুহূর্তে একটি পূর্ণাঙ্গ ও বিধ্বংসী যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। যদিও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা এখনই পূর্ণমাত্রার যুদ্ধকে অবধারিত বলতে নারাজ, তবুও তাদের মূল্যায়ন—পরিস্থিতি যেকোনো মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগে যুক্তরাষ্ট্রের এই যুদ্ধংদেহী অবস্থান বিশ্ব রাজনীতি ও তেলের বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।