― Advertisement ―

মার্কিন প্যাট্রিয়ট মিসাইল ও রাডার ধ্বংসের দাবি: কুয়েতের ঘাঁটিতে ইরানের নজিরবিহীন ড্রোন স্ট্রাইক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সামরিক সংঘাত এক নতুন এবং বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে। কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি সামরিক ঘাঁটিতে বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। আজ রোববার ইরানের সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল আইআরআইবি (IRIB) এই চাঞ্চল্যকর সামরিক অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করেছে। এই আকস্মিক হামলার পর গোটা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই সুনির্দিষ্ট অভিযানে কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ‘ক্যাম্প আল-আদির’-এর একটি বিশাল গোলাবারুদের প্রধান গুদামকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এর পাশাপাশি মার্কিন বিমানবাহিনীর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘আলি আল-সালেম’ বিমানঘাঁটিতে মোতায়েন করা মার্কিন প্রযুক্তির অত্যাধুনিক প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (Patriot Missile Defense System) এবং প্রধান বিমান প্রতিরক্ষা রাডার নেটওয়ার্কের ওপর সফল ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। হামলার ফলে মার্কিন সামরিক সক্ষমতার এই সংবেদনশীল স্থাপনাগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তেহরান দাবি করেছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে ইরানের বিভিন্ন কৌশলগত ও অভ্যন্তরীণ স্থাপনায় একের পর এক তীব্র বিমান হামলা চালিয়ে আসছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের সেই আগ্রাসনের কঠোর জবাব দিতেই তেহরান কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে এই নজিরবিহীন পাল্টা ও প্রতিরোধমূলক হামলা চালানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে।

উল্লেখ্য যে, এর আগে গত জুন মাসে প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের কূটনৈতিক মধ্যস্থতায় দীর্ঘ সামরিক বৈরিতা অবসান ঘটিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হওয়া সত্ত্বেও মধ্যপ্রাচ্যের মাটি থেকে সামরিক উত্তেজনা বিন্দুমাত্র কমেনি, বরং পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল থেকে জটিলতর রূপ ধারণ করেছে।

কুয়েতের মাটিতে মার্কিন বাহিনীর দুটি বৃহত্তম বিমান ও সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের এই সফল ড্রোন হামলার বিষয়ে ওয়াশিংটন কিংবা পেন্টাগনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি। তবে কুয়েতের আকাশে মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলোর অস্বাভাবিক মহড়া এবং প্রতিরক্ষা জোরদার করার খবর পাওয়া গেছে।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর কুয়েতের মতো কৌশলগত মার্কিন ঘাঁটিতে সরাসরি ইরানের এই আঘাত বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। ওয়াশিংটন যদি এই হামলার বড় ধরনের কোনো সামরিক জবাব দেয়, তবে তা এই অঞ্চলে একটি পূর্ণাঙ্গ ও দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের সূচনা করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।