― Advertisement ―

পারভীন হত্যা: খুনি রসু খাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল হাই কোর্টে

চাঁদপুরের পারভীন হত্যা মামলায় আলোচিত খুনি রসু খাঁর মৃতুদণ্ড বহাল রেখেছে হাই কোর্ট।মঙ্গলবার বিচারপতি সৈয়দ মো. জিয়াউল করিম ও বিচারপতি কে এম ইমরুল কায়েশের...

দলবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় ৩ আসামির আমৃত্যু কারাদণ্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন

দীর্ঘ ১৪ বছরের আইনি প্রক্রিয়া ও বিচারিক লড়াই শেষে ঠাকুরগাঁওয়ে এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও দলবদ্ধ ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর মামলার ঐতিহাসিক রায় ঘোষিত হয়েছে। রোববার দুপুরে ঠাকুরগাঁও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞ বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) আলী মনসুর জনাকীর্ণ আদালতে এই যুগান্তকারী রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত ও অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তিন আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং অপরাধে সহায়তাকারী অপর তিন আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

মামলার রায়ে আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— মো. আনিস রানা, মো. সাইফুল ইসলাম ও মো. দুলাল। অন্যদিকে, আদালত কর্তৃক যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত আসামিরা হলেন— মো. আনিছুর, মো. খতিবুর ওরফে খতু এবং মো. লালু। দণ্ডপ্রাপ্ত এই ছয়জন আসামির সবার বাড়িই ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মুসলিমনগর ও গোয়ালপাড়া এলাকায় অবস্থিত। রায় ঘোষণার সময় মূল আসামি মো. আনিস রানা আদালতে অনুপস্থিত বা পলাতক থাকায় বিজ্ঞ আদালত তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ অবিলম্বে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন।

আদালতের রায়ের বিবরণী থেকে জানা যায়, আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামির প্রত্যেককে ২ লক্ষ টাকা করে এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামির প্রত্যেককে ১ লক্ষ টাকা করে আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে। এই জরিমানা অনাদায়ে দণ্ডিতদের আরও অতিরিক্ত ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। রায়ে আদালত বিশেষভাবে ও কঠোরভাবে উল্লেখ করেছেন যে, আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা ফৌজদারী কার্যবিধির ৩৫(এ) ধারা কিংবা প্রচলিত জেল কোডের কোনো বিধানের অধীনেই তাদের মূল সাজা মওকুফ বা কোনো ধরনের রেমিশন (সাজা হ্রাস) সুবিধা পাবেন না।

আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছেন যে, আসামিদের ওপর আরোপিত এই অর্থদণ্ড বা জরিমানার টাকা সম্পূর্ণভাবে ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে গণ্য হবে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৬ ধারা মোতাবেক ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসককে (ডিসি) দণ্ডিত আসামিদের যাবতীয় স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও নিলামে বিক্রয় করে সেই অর্থ দ্রুততম সময়ের মধ্যে ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়ার জন্য আইনি আদেশ দেওয়া হয়েছে।

নথিপত্র ও মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০১১ সালের ২১ অক্টোবর বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় বান্ধবীর বাসা থেকে নিজ বাড়ি ফেরার পথে এই পাশবিকতার শিকার হয় ওই স্কুলছাত্রী। এনামুল পেট্রোল পাম্পের পেছনে পৌঁছালে আসামিরা জোরপূর্বক তার মুখ চেপে ধরে অপহরণ করে। পরে পাম্পের পেছনের বাঁশ হাটের পাশে একটি নির্জন মোবাইল টাওয়ারের নিচে নিয়ে আসামিরা পর্যায়ক্রমে তাকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করে। ঘটনার তিন দিন পর অর্থাৎ ২৪ অক্টোবর ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় মামলা করেন।

দীর্ঘ তদন্ত ও শুনানি শেষে আদালত এই দৃষ্টান্তমূলক রায় ঘোষণা করলেন। এই রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘ ১৪ বছর পর ভুক্তভোগী পরিবারটি কাঙ্ক্ষিত বিচার পেল। রায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা সন্তোষ প্রকাশ করে একে ন্যায়বিচারের অনন্য দৃষ্টান্ত বলে উল্লেখ করেছেন।