বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার আগেই অ্যানেসথেসিয়া ইনজেকশন প্রয়োগের ফলে দুই নারী রোগীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। আজ রোববার সকালে হাসপাতালের নাক, কান ও গলা বিভাগে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন পটুয়াখালীর সেফালী বেগম এবং বরিশালের স্থানীয় বাসিন্দা হেলেনা বেগম। জানা গেছে, অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি হিসেবে ওয়ার্ডেই তাদের শরীরে ‘নরকিউ’ নামক চেতনানাশক ইনজেকশন পুশ করা হয়েছিল, যার কয়েক মিনিটের মধ্যেই তারা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
নিহতদের পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, টিউমার ও থাইরয়েড সমস্যার চিকিৎসার জন্য তারা হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী অপারেশন থিয়েটারে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের উপস্থিতিতে অ্যানেসথেসিয়া দেওয়ার কথা থাকলেও ওয়ার্ডের নার্স মলিনা রাণী হালদার আগেই তা প্রয়োগ করেন। এই ইনজেকশন দেওয়ার পরপরই রোগীদের খিঁচুনি ও শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। স্বজনদের অভিযোগ, নার্সদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কারণেই সুস্থ মানুষগুলো অকালে প্রাণ হারিয়েছেন। অভিযুক্ত নার্স নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাইলেও জ্যেষ্ঠ নার্সদের অসহযোগিতার কথা উল্লেখ করেছেন।
চিকিৎসকদের মতে, ‘নরকিউ’ বা ভেকুরোনিয়াম ব্রোমাইড জাতীয় ওষুধ প্রয়োগ করলে রোগীর কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাসের (ভেন্টিলেশন) প্রয়োজন হয়। কিন্তু ওয়ার্ডে কোনো সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই এই শক্তিশালী ড্রাগ প্রয়োগ করা চিকিৎসাবিজ্ঞানের চরম লঙ্ঘন। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মশিউল মুনীর এই ঘটনাকে ‘গুরুতর অপরাধ’ ও ‘গাফিলতি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট প্রটোকল না মেনে এভাবে ইনজেকশন দেওয়া আইনত দণ্ডনীয়।
এই মর্মান্তিক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন পরিচালক। পাশাপাশি নিহতদের পরিবারকে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাতে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। রোগীদের মধ্যে এই ঘটনায় চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।



