― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের বাদানুবাদ

জাতীয় সংসদে আজ জুলাই জাতীয় সনদের প্রস্তাবনা ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন নিয়ে সরকার ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান নির্ধারিত সময়ে পরিষদের অধিবেশন না ডাকায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বরের রাষ্ট্রপতির আদেশ অনুযায়ী নির্বাচনের এক মাসের মধ্যে এই অধিবেশন বসার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা পালন করা হয়নি। শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, বর্তমান সংসদ সদস্যরা দ্বৈত সক্ষমতায় নির্বাচিত হয়েছেন এবং জুলাই আদেশের বিধি মোতাবেক তাদের একই সঙ্গে সংসদ ও সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের আইনি সুযোগ রয়েছে।

পাল্টা বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিষয়টিকে সাংবিধানিক জটিলতা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানান, বিদ্যমান সংবিধানে ‘संविधान সংস্কার পরিষদ’ নামক কোনো কাঠামোর অস্তিত্ব নেই। ফলে প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে কোনো পরামর্শ দিতে পারেন না এবং রাষ্ট্রপতিও নিজ থেকে অধিবেশন আহ্বানের এখতিয়ার রাখেন না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে একটি ‘আরোপিত আদেশ’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং প্রশ্ন তোলেন যে, কোনো অধ্যাদেশ বা আদেশের মাধ্যমে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন করা আইনত সম্ভব কি না। তিনি আবেগ সরিয়ে রেখে আইনি ও সাংবিধানিক পথে হাঁটার ওপর জোর দেন।

বিতর্কের এক পর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের আগে সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা আবশ্যক। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, জুলাই সনদের রাজনৈতিক সমঝোতাকে তারা সম্মান করলেও কোনো অবৈধ বা জবরদস্তিমূলক আদেশের মাধ্যমে সংবিধান পরিবর্তন করা যাবে না। বিষয়টি বর্তমানে বিচার বিভাগেও রুল আকারে বিচারাধীন রয়েছে। তিনি বিরোধীদলীয় নেতাকে এই জটিলতা নিরসনে সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটিতে আলোচনার প্রস্তাব দেন এবং বাজেট অধিবেশনে সংবিধান সংশোধনী বিল আনার সম্ভাবনার কথা জানান।

অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিষয়টিকে অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ বলে স্বীকার করেন। তবে তাৎক্ষণিক কোনো সমাধান না দিয়ে তিনি বিরোধীদলীয় নেতাকে বিধিসম্মত নোটিশ দেওয়ার পরামর্শ দেন। স্পিকার জানান, যথাযথ প্রক্রিয়ায় নোটিশ আসলে তিনি বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। এর মাধ্যমে আপাতত সংসদের এই অনির্ধারিত বিতর্কের অবসান ঘটে, তবে সংবিধান সংস্কারের বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।